ফেনীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু হচ্ছে আজ

আরিফ আজম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৮:৪৮

ফেনীতে প্রথমবারের মতো তিন দিনে ইজতেমা আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার জেলার সর্ববৃহৎ জুমার নামাজে তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এক জামাতে শরিক হয়ে নামাজ আদায় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন।

এদিকে ইজতেমা মাঠের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও ক্লোজ সার্কিট (সিসি ক্যামেরা) স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বসানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’।

গতকাল ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা গেছে, বিকাল থেকে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুসল্লিরা দলবদ্ধ হয়ে মাঠের নির্ধারিত খিত্তায় প্রবেশ করতে শুরু করেছেন। আজ বাদ ফজর থেকে দুপুরের মধ্যে পুরোদমে তারা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও ব্যাগ নিয়ে অবস্থান করবেন। দেবীপুর, ফতেহপুর ও বিসিক শিল্প নগরীসহ আশপাশের এলাকার মেহমানরা নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন। ইজতেমা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইজতেমার এতো বড় আয়োজনের সব প্রস্তুতি পরামর্শের মাধ্যমে স্বেচ্ছাশ্রমে করা হয়েছে। ময়দান এলাকাভিত্তিক মুসল্লিদের অবস্থান, রান্না-বান্না করার স্থান, টয়লেট, অজুখানা, গোসলখানা সবই সুনির্দিষ্ট রয়েছে।

প্রস্তুত প্রশাসন

বুধবার দুপুর থেকে ইজতেমা ময়দানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সাড়ে চারশ পোশাকদারি ও ছদ্মবেশে সাদা পোশাকে ২৫০ জন দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ময়দানের চারপাশের পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে ২০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমায় ১নং প্রবেশপথে জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হকসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরাসরি তদারকি করছেন।

একইভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রতিদিন তিন ভাগে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ছিনতাইকারী, মলম পার্টি ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রি বন্ধে ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি ফেনীস্থ র‌্যাব-৭ এর সদস্যরাও টহলে থাকবেন।

সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বক্ষণিক ফ্রি চিকিৎসা দিতে ফেনী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন, ইজতেমা ময়দানে ২নং প্রবেশ গেইটে চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এখানে পাঁচটি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক থাকবে। দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সাহাব উল্লাহ রিটু প্রধান চিকিৎসকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার সাথে রয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইলিয়াছ ভূঞা, সিনিয়র স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যুরো কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

গতকাল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে বিএমএ ফেনী জেলা সহ-সভাপতি ডা: দেলোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী পৌরসভার কার্যক্রম

ইজতেমায় মুসল্লিদের সুবিধার্থে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ফেনী পৌরসভা। পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ আশ্রাফুল আলম গীটার জানান, শৌচাগারের জন্য ৩০০ কেজি ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া বর্জ্য অপসারণের জন্য দুটি গাড়ি, মল-মূত্র অপসারনের জন্য একটি ট্যাংকার, একটি মেডিকেল টিম ও একটি অ্যাম্বুলেন্স, একটি বিশুদ্ধ পানির ট্যাংকার, তিনটি অজুর পানির পাম্প দেয়া হয়েছে।

এদিকে বিকালে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পক্ষ থেকে পৌরসভার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী ও লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী ইজতেমাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা মুরুব্বিদের সাথে কথা বলে ইজতেমা প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন।

তৎপর ফায়ার সার্ভিস

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কবির হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানান, ইজতেমাস্থলে তাদের একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে তিনটি ইউনিট দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া বয়ান মঞ্চে এস্টিংগুইসারসহ দুইজন ফায়ারম্যান থাকবে। ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সটিও সার্বক্ষণিক রাখা হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৬ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত