মালয়েশিয়ায় খুন হওয়া চান মিয়া শিবচরে শায়িত

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল ২০১৭, ২০:০৮

গত ২৮ মার্চ রাতে মালয়েশিয়ায় খুন হন মাদারীপুর জেলার শিবচরের যুবক চান মিয়া। লাশ বুধবার দুপুরে পৈত্রিক নিবাস শিবচরের ভদ্রাসন ইউনিয়নের ক্রোকচর নতুন বাজার এলাকায় এসে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু, পরিচিতজনের একবার শেষ দেখা দেখতে ভিড় জমায় বাড়ির আঙিনায়।

দুপুরের পর নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এসময় নিহতের স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের ক্রোকচর নতুন বাজার গ্রামের নূরুল ইসলাম সরদারের বড় ছেলে চার সন্তানের জনক চান মিয়া সর্দার সংসার চালাতে এলাকার বিভিন্ন বাজারে কখনো ফল কখনো পিঠা বিক্রি করত।

প্রায় ১০ বছর আগে অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে কয়েক লাখ টাকা ঋণ করে পাড়ি জমায় মালয়েশিয়ায়। সেখানে রাজধানী কুয়ালালামপুরে বসবাস করত। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে সে।

সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাড়ি এসে পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে আবার মালয়েশিয়া ফিরে যায় চান মিয়া।

নিহত চান মিয়া মালয়েশিয়ায় বসবাসকালে শরিয়তপুর জেলার জাজিরা থানার পালেরচর ফকিরকান্দি গ্রামের কালু ফকির ও তার ভাই সজিব ফকিরের সাথে পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়।

বিষয়টি সেসময় স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীরা মিটিয়ে  দেন। দ্বন্দ্ব মিটে যাওয়ায় চান মিয়া ও কালু একে অপরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন।

গত ২৮ মার্চ কালু চান মিয়াকে মালয়েশিয়ায় তার বাসায় দাওয়াত করে নিয়ে যায়। রাতে দুজনে এক সাথে খাবার খেয়ে একটি ভবনের ছাদে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত গভীর হলে কালু লোহার রড দিয়ে ঘুমন্ত চান মিয়ার মাথায় আঘাত করে খুন করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে দাবি স্বজনদেন।

পরদিন বিকালে অন্য প্রবাসী বাঙালিরা ছাদে চান মিয়ার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। রাতে চান মিয়ার বাড়িতে তার মৃত্যুর খবর আসে।

ওই দেশের পুলিশ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার চান মিয়ার লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠায়।

নিহত চান মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, কালুর বাসায় রাতের খাবার খাওয়ার পর আমার স্বামী আমাকে ফোন করেছিল। সে আমাকে বলেছিল কালুর বাসায় রাতে থেকে পরদিন কাজে যাবে। কালু আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।

ভদ্রাসন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, চান মিয়া খুব ভাল ও পরিশ্রমী যুবক ছিল। তাকে মালয়েশিয়ায় হত্যা করা হয়েছে। যারা তাকে হত্যা করেছে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে আমরা চাই খুনিদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

(ঢাকাটাইমস/৫এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত