ফরিদপুরের গড়াই সেতু

নির্মাণ ব্যয়ের তিনগুণ আদায় সত্ত্বেও নেওয়া হচ্ছে টোল

ফরিদপুর প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪৭

১৯৯১ সালে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া গড়াই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা। আর গত ২৮ বছরে টোল আদায়ের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব এসেছে ১৪৭ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা। খরচের তিনগুণ বেশি উঠে এলেও এই সেতু থেকে টোল আদায় চলছেই। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন এবং ওই সেতু দিয়ে চলাচল করা বিভিন্ন গাড়ির চালকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ফরিদপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কামারখালীতে গড়াই নদীতে স্থাপিত ৬২২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির উদ্বোধন করা হয় ১৯৯১ সালের ১৬ জুলাই। সর্বশেষ গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪০ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের জন্য এই সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা। তিন দফায় ফরিদপুর সড়ক বিভাগকে এই টাকা পরিশোধের করার কথা। এ পর্যন্ত ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ কোটি টাকা পেয়েছে বিভাগটি।

এই ১৮ কোটি টাকাসহ এই সেতু থেকে গত ২৮ বছরে টোল আদায় হয়েছে ১৪৭ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমান নির্মাণ খরচ উঠে যাওয়ার পর ঢাকা-আরিচা সড়কের মানিকগঞ্জ জেলায় অবস্থিত কালীগঙ্গা নদীর ওপর স্থাপিত ৬৬৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে তরা সেতুটি টোলমুক্ত করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে ওই সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে আর টোল দিতে হচ্ছে না।

এলাকার লোকজন বলছেন, অথচ নির্মাণ খরচের প্রায় তিনগুণ টাকা ইতিমধ্যে উঠে এলেও গড়াই সেতুটি টোলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ট্রেইলার (১২ চাকাবিশিষ্ট যানবাহন যা মূলত বিদ্যুতের খুঁটি, ট্রেনের পাতসহ বিভিন্ন যানবাহন আনা নেওয়ায় ব্যবহৃত হয়) থেকে শুরু করে ঠেলাগাড়ি পর্যন্ত এই সেতু পার হতে ৫৬৫ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হচ্ছে।

টোল আদায়ে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক কার্তিক দত্ত জানান, প্রতিদিন গড়ে এই সেতু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার যানবাহন চলাচল করে। অপর ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, এই টোলঘর থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা টোল আদায় করা হয়।

ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী মাগুরার ড্রাম-ট্রাকচালক নাসির হোসেন মোল্লা জানান, তার ট্রাকটি মূলত বালু আনা-নেওয়ার কাজ করে। এই কাজে প্রতিদিন ১০ বার ওই সেতু অতিক্রম করলে ১০ বারই টোল দিতে হয়, যা একটি বিরক্তিকর বিষয়।

ফরিদপুর সদর উপজেলার মুন্সীবাজারের মাইক্রোবাসচালক মো. আয়নাল হোসেন বলেন, ‘২৮ বছর ধরে টোল দিতে হচ্ছে, জানি না কবে মুক্তি পাব।’

ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘এই সড়কে প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার বাস চলাচল করে। আসা-যাওয়ার পথে আমাদের টোল দিতে হচ্ছে। টোলের এই টাকা আমরা মালিকেরা নিজেদের পকেট থেকে দেই না, যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করি। তাই এটি বন্ধ হলে আমাদের চলাচলে সময় বাঁচবে, উপকৃত হবেন যাত্রীরাও।’

ফরিদপুর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন বলেন, সেতুর নির্মাণব্যয় উঠে যাওয়ায় টোল তুলে দেওয়া উচিত।

মধুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজার রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমরা আর কত বছর টোল দিব? এর একটা শেষ থাকা দরকার।’

ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম রকিবুল বারি বলেন, সড়ক বিভাগ টোল তুললেও এই টাকা জমা হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সরকারের আয়ের একটি উৎস সেতুর টোল। নির্মাণ খরচ উঠে গেলে টোল তুলে নেওয়া হবেÑ এজাতীয় কোনো নির্দেশনা নেই। টোল তোলা না তোলার বিষয়টি নির্ভর করে মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি তুলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জানালে ফল পাওয়া যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :