পাঁচ ভ্রমণকন্যা নেত্রকোণায়

নেত্রকোণা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৯, ১৯:২৪

পাঁচ ভ্রমণকন্যা মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে বেরিয়ে পড়েছেন দেশ ঘুরতে। সেই সঙ্গে দেশের শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ে সচেতন করাও তাদের লক্ষ্য। বয়সে তরুণী পাঁচজন ২৫ থেকে ২৭ এর মধ্যে।

বাড়ি তাদের খুলনায়, কারো জয়পুরহাট, কারো পটুয়াখালিতে। তারা স্কুটি চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।

‘নারীর চোখে বাংলাদেশ, ৬৪ জেলায় ট্রাভেলেটস’ এই স্লোগানে তারা যাচ্ছেন জেলায় জেলায়। মানুষের সঙ্গে মিশে অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, বাল্যবিবাহ, বয়োসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনসহ আত্মরক্ষার বিষয়গুলো মেয়েদের সামনে তুলে ধরছেন।

এই ভ্রমণকন্যারা হলেন- ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা সাকিয়া হক, মানসী সাহা তুলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলভি রহমান,  জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুনতাহা রুম্মান অর্থী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী শান্তা ইসলাম।

তারা ‘ট্রাভেলেটস অফ বাংলাদেশ- ভ্রমণ কন্যা’ নামে একটি সংগঠন খুলে স্কুটিতে বাংলাদেশ ঘুরে দেখার কর্মসূচি হাতে নেন ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে।

বুধবার ৫১টি জেলা পেরিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে নেত্রকোণায় ৫২তম জেলা হিসেবে অবস্থান নিয়েছেন।

‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে এই পাঁচ ভ্রমণকন্যা সকাল ১০টার দিকে দুইটি স্কুটি চালিয়ে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় নেত্রকোণা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পৌঁছান। বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া অন্তত পাঁচ শতাধিক ছাত্রীকে নিয়ে তারা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন।

এর আগে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শিবানী সাহা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। রাতে সার্কিট হাউজে থেকে বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা রয়েছে তাদের। সেখান থেকে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলবীবাজার, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ বাকি ১২টি জেলা ঘুরে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশভ্রমণ সমাপ্ত করার কথা রয়েছে তাদের।

ভ্রমণ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ-ভ্রমণকন্যার প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক সাকিয়া হক ও মানসী সাহা। 

ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ ভ্রমণকন্যা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাকিয়া হক  জানান, ‘শুধু লেখাপড়া করব- দেশকে জানব না, মুক্তিযুদ্ধকে জানব না, দেশের মানুষকে ভালোবাসব না- তাতো হয় না। তাই স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা নিয়ে সচেতনতামূলক এই কাজ করছি। আমরা মনে করি এই ভ্রমণের মাধ্যমে যে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে, তাতে পুরো দেশের নারী শিক্ষার্থীরা জাগ্রত হবে। এই ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা বঞ্চিত নারীদের অধিকার জাগিয়ে তুলতে চাই।’

আরেক প্রতিষ্ঠাতা মানসী সাহা বলেন, ‘ভ্রমণকালে প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এ সময় সড়ক নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ, মুক্তিযুদ্ধ, পর্যটন সম্ভাবনা, খাদ্যপুষ্টি, বিভিন্ন রকম সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, বয়ঃসন্ধিকালীন নানা সমস্যা, নারী স্বাস্থ্যের সচেতনতা, বিপদে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষায় করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠনে প্রায় ২৫ হাজারের মতো নারী সদস্য এসব সচেতনা বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। একটি বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে।’

মুনতাহা রুম্মান অর্থী বলেন, ‘দেশ দেখার আগ্রহটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। কিন্তু পরিবার থেকে অনুমতি মিলত না। এতে মন খারাপ হতো। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, একটা মেয়েদের ভ্রমণবিষয়ক সংগঠন দাঁড় করাব। এরপরই ফেসবুকের মাধ্যমে সংগঠনটি দাঁড় করাই। শুরুতে কর্ণফুলী গ্রুপ আমাদের দুটি বাইক কিনে দেয়। ৩৩টি জেলা ভ্রমণের পর আমাদের পাশে দাঁড়ায় স্কয়ার গ্রুপ। তারা এখন আমাদেরকে তেলের খরচ যোগান দিচ্ছে।’

প্রতিবন্ধকতা নিয়ে পাঁচজনের আরেকজন সিলভী রহমান বলেন, ‘প্রথমে একটু সমস্যা হলেও এখন আর হয় না। নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। স্কুটি চালাতে গিয়ে কেউ যদি আমাদের নিয়ে হাসিঠাট্টা করেন, তবে তাদের বুঝাই- সচেতনা সৃষ্টি করি। সবকিছু নিয়ে তো প্রতিবাদ করার প্রয়োজন হয় না।’

নেত্রকোণা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঈষিকা অরুনিমা বলেছে, ‘নতুন করে অনেক বিষয়ই জানতে পেরেছে। পাঁচজনের কাছ থেকে শোনা বক্তব্য তাদের জীবনে কাজে লাগবে।’

নেত্রকোণা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবানী সাহা বলেন, ‘স্কুটি চালিয়ে দেশ ভ্রমণ করা এই চারজন নারীকে দেখে আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনুপ্রেরণা পেয়েছে। আমিও অভিভূত হয়েছি। তারা প্রকৃত অর্থেই সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করছেন।’

জেলা সুজনের সভাপতি ও প্রেসক্লাব সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ‘এই পাঁচ নারীর সাহসিকতা দেখে আমি বিস্মৃত হয়েছি। তারা প্রমাণ করেছেন ইচ্ছা থাকলেই সব সম্ভব। নারী পুরুষ কোন পার্থক্য নেই। তাদের দেখে অন্য মেয়েরাও এগিয়ে আসবে। এটিকে উন্নয়নের বাংলাদেশ বলা যায়।’

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :