ইলেকট্রিক সিগারেট বা ভেপিং পানে মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৫৩

ইলেকট্রিক সিগারেট পানের কারণে বিরল শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত রোগে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যে একজনের মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিরল ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ রোগের সঙ্গে ইলেকট্রিক সিগারেট পানের যোগসূত্র রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

সাধারণ সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ‘ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম’ (এন্ডস) বা ‘ইলেকট্রনিক সিগারেট’ ব্যবহার করা হয়। সিগারেটের মতই দেখতে ফাইবার বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই ব্যাটারিচালিত যন্ত্রগুলির মধ্যে একটি প্রকোষ্ঠ থাকে। তার মধ্যে ভরা থাকে বিশেষ ধরনের তরল মিশ্রণ।

যন্ত্রটি গরম হয়ে ওই তরলের বাষ্পীভবন ঘটায় এবং ব্যবহারকারী সেই বাষ্প টেনে নেয় ফুসফুসে, যা ধূমপানের অনুভূতি দেয়। এই পদ্ধতিকে বলে ‘ভেপিং’।

দাবি করা হয়, ভেপিং ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে সাহায্য করে। কিন্তু ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করে এর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং কোনও ক্ষেত্রে এর প্রভাব সাধারণ সিগারেটের চেয়েও ক্ষতিকারক বলে দাবি করেছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায়, দেশটির ২২টি রাজ্যে ধূমপানজনিত ১৯৩টি ‘সম্ভাব্য কেইস’ রয়েছে। চলতি বছরের ২৮ জুন থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে এই কেইসগুলোর খবর পাওয়া গেছে।

ইলিনয় রাজ্যের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা এবং এপিডিমোলিজিস্ট বলেন, ফুসফুসজনিত রোগে মৃত ব্যক্তি বিরল রোগে মারা গেছেন। তার বিরুদ্ধে ভেপিন বা ইলেকট্রিক সিগারেট পানের তথ্য পাওয়া গেছে।

সিডিসি পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড বলেন,‘ইলেকট্রিক সিগারেট বা ভেপিন পানের কারণে মৃত্যুর খবর পেয়ে মন:ক্ষুণœ হয়েছেন।’

 

ইলেকট্রিক সিগারেট বা ভেপিং পান নিরাপদ?


যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যে ইলেকট্রিক সিগারেট বা ভেপিং পানের কারণে মৃত্যু হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট না। বিশেষজ্ঞরা আশক্সক্ষা করছেন, বিরল ফুসফুসজনিত রোগের সঙ্গে ইলেকট্রিক সিগারেটের যোগসূত্র থাকতে পারে। 

ইলেকট্রিক সিগারেট এর ইতিবাচক দিক সম্পর্কে বলা হয় যে সিগারেটের তুলনায় ইলেকট্রিক সিগারেট অনেক নিরাপদ। ইলেকট্রিক সিগারেটে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় নিকোটিন থাকে কিন্তু ক্যানসার সৃষ্টিকারী কারসিনোজেন,কার্বন মনোক্সাইড বা টার নেই। সিগারেটের মতো ইলেকট্রিক সিগারেট পানে কোন ক্ষতি নেই।  

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রিক সিগারেটের তরল মিশ্রণ (ইলেকট্রিক লিকুইড) এর মধ্যে থাকে প্রপেলিন গ্লাইসল, গ্লিসারিন, পলিইথিলিন গ্লাইসল, নানাবিধ ফ্লেভার এবং নিকোটিন। গরম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রাসায়নিক গুলি থেকে সাধারণ সিগারেটের ধোঁয়ার সমপরিমাণ ফরমালডিহাইড উৎপন্ন হয়। এ ছাড়াও ইলেকট্রিক সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকে অতিসূক্ষ্ম রাসায়নিক কণা যা ভীষণ ক্ষতিকারক। এর থেকে গলা মুখ জ্বালা, বমিভাব এবং ক্রনিক কাশি দেখা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য এবং ঔষধ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিচ জিলার বলেনে, ফুসফুসজনিত মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে আমরা খুব দ্রুত জানতে পেরেছি। এই বিরল রোগের সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে, রোগের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে পারবো।’

তবে, বৃহস্পতিবার আমেরিকার ভেপিং অ্যাসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগরি কনলি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইলিনয় রাজ্যে ফুসফুসজনিত বিরল রোগের ঘটনায় নিকোটিনের পরিবর্তে ক্যানাবিস অথবা অন্য মাদক গ্রহণ দায়ী।

ঢাকাটাইমস/২৪আগস্ট/আরআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :