নতুন শঙ্কায় বিএনপি

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:১৩
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক (ফাইল ছবি)

দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ দলটি এবার পড়েছে নতুন সংকটে। এক সাবেক নেতার মামলায় ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ চিন্তার রেখা তৈরি করেছে তাদের কপালে। এর পেছনে সরকারের হাত দেখছেন তারা। এমনকি সামনে এ ধরনের আরও বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা চেপে বসেছে বিএনপির নেতাদের ভাবনায়।

মূল দল ও অঙ্গসংগঠন গুছিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করছে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাউন্সিল করে তৃণমূলের কমিটি করছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় দলের একসময়ের ‘ভ্যানগার্ড খ্যাত’ ছাত্রদলে ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আয়োজন শেষ করে আনা হয়েছিল। ভোটের দুই দিন আগে সব থমকে গেল নিজেদেরই এক নেতার কারণে।

ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার মামলায় আটকে গেছে সংগঠনটির কাউন্সিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে কবে নাগাদ ভোটাভুটি করা যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে প্রার্থী, ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।

গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ছাত্রদলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল। সারা দেশের ৫৮০ জন কাউন্সিলের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতৃত্ব। সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য নয়জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন আগ্রহী নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানা যায় সম্মেলনের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশের কথা।

শেষ মুহূর্তে এই ঘটনায় অনেকটা হতবাক বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা এমনটি কল্পনাও করেননি। এর পেছনে সরকারের ষড়যন্ত্র আছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অবশ্য সরকারের তরফ থেকে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

সম্মেলন স্থগিতের পেছনে সংগঠনের অন্তঃকোন্দলের দিকেও ইঙ্গিত করছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কোনো কোনো নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, কাউন্সিলে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের পরাজয়ের সম্ভাবনা বুঝতে পেরে দলেরই একটি গ্রুপ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-ধর্মসম্পাদক আমানউল্লাহ আমানকে দিয়ে মামলা করিয়েছে।

তবে ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যতে মন্দ কিছুর আশঙ্কা করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দলের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনেও কাউন্সিল করে নেতৃত্ব নির্বাচনে এমন বাধার মুখে পড়তে পারেন বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘একটি সংগঠনের কাউন্সিল ঘিরে এমন পরিস্থিতির তৈরি হবে তা কারও কল্পনাতেও ছিল না। এটা আমাদের জন্য অ্যালার্মিং। ভাবতে হবে। যে মামলা করল সে আমাদের দলেরই কেউ। এর পেছনে অন্য কারও হাতও আছে।’

ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারির পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে দফায় দফায় বৈঠক করেন বিএনপির নেতারা। শুক্রবার রাতে স্থায়ী কমিটির নেতাদের পাশাপাশি আইনজীবী ও কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নেতারাও বৈঠক করেন। বিএনপির মহাসচিবসহ যে দশজন নেতাকে আদালত কারণ দর্শাতে বলেছে, সেটা সময়মতো দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যুক্ত ছিলেন। আইনি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কাউন্সিলের বাধা দূর করার নির্দেশনা দেয়া হয় বৈঠকে।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ঢাকা টাইমসকে বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে আদালত যে নির্দেশ জারি করেছে এটা স্ববিরোধী। ইতিপূর্বে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ আদালতের কাজ নয়। এর আলোকে বলতে পারি কাউন্সিলের ওপর যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেটা আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত।’

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সময়মতো এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কবে নাগাদ জবাব দেয়া হবে তা স্পষ্ট করেননি এই তিনি।

এদিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আদালতের এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। বৈঠকে তারা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ছাত্রদলের বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেটা আজ রবিবার হতে পারে।

মেয়াদোত্তীর্ণ বিএনপির বিভিন্ন কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে করা হচ্ছে। অঙ্গসংগঠনগুলোতেও এমনটা করার কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু ছাত্রদলের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ আসায় সেই সিদ্ধান্তে কিছুটা হোঁচট খেল দলটি। 

এ জন্য সরকারের প্রতিও অভিযোগ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সামনে চলতে চাইলেও সরকার তা হতে দিতে চায় না। এটা অনেকটা ক্লিয়ার হয়ে গেছে। কারণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আদালতের হস্তপেক্ষ করার কোনো যুক্তিই নেই।’

ঢাকাটাইমস/১৫সেপ্টেম্বর/বিইউ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :