নাটোরের সিংড়া

আট আসামির ১৭৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদে নিষেধাজ্ঞা!

সাইফুল ইসলাম, নাটোর
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫১

নাটোরের সিংড়ায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে আলমগীর হোসেন নামে একজন নিহত হন প্রায় আট মাস আগে। তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেনের ভাই। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয় আটজনকে। আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে এলেও তাদের ফিরতে দেয়া হচ্ছে না বাড়িঘরে। এছাড়া স্থানীয় গ্রামপ্রধানদের নির্দেশের নামে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে আট পরিবারের প্রায় ১৭৫ বিঘা জমির চাষাবাদ বন্ধ করে দেয়া হয়।

ডাহিয়া ইউনিয়নের ৫নং ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলছেন, গ্রামবাসীর সঙ্গে ওই পরিবারগুলোর আপস হচ্ছে না। তাই গ্রামপ্রধানদের নির্দেশ পেয়ে তারা নিজেরাই জমি চাষ বন্ধ রেখেছেন। এটা কি আইনে পড়ে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আইনের কথা না। আইন কিন্তু আমার-আপনার মতো লোক দ্বারাই সৃষ্টি হয়। এটা একটা সমাজ, এই সমাজকে মেইনটেইন করে চলতে হবে। সমাজের বাহিরে তো কেউ না। এখানে দশ ঘর মানুষ একদিকে আর সত্তর ঘর মানুষ একদিনে। তাই গ্রামপ্রধানদের নির্দেশই আইন।’

সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সিংড়ার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ইউপি মেম্বার কামাল হোসেনের সঙ্গে মৃত তমিজ উদ্দিনের ছয় ছেলের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কামাল হোসেনের বড়ভাই আলমগীর হোসেন নিহত হন।

এরপর তমিজ উদ্দিন ও রইচ উদ্দিনের পাঁচ ছেলের বাড়িঘরে লুটপাট করে তাদের গ্রামছাড়া করেন ইউপি মেম্বার ও তাদের সমর্থকরা। আলমগীর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তমিজ উদ্দিনের ছয় ছেলে জামিনে বেরিয়ে এলেও তাদের এলাকায় ঢুকতে দেননি ইউপি মেম্বারের সমর্থকরা।

স্থানীয় গ্রামপ্রধান মিজানুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, হত্যার ঘটনায় নয় বরং কবরস্থানের একটি জমি নিয়ে বিরোধে ওই কৃষকদের জমিতে চাষাবাদ করতে দেয়া হচ্ছে না। আর এটা কারও একক সিদ্ধান্ত নয়। স্থানীয় সমাজপ্রধানরা বসে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনিছুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘একটি হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে আট মাস ধরে পাঁচ পরিবার গ্রামছাড়া। আর মেম্বার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে চালানো হয়েছে ওই বাড়ি-ঘরে লুটপাট। গত দুই মৌসুম ধরে অনাবাদি রয়েছে প্রায় ১৭৫ বিঘা ধানি জমি। লুটে নেয়া হয়েছে ১৫টি শ্যালো মেশিন, মোটর ও পুকুরের মাছ।’

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লাবু মিয়ার স্ত্রী শাহানাজ বেগম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কামাল মেম্বারের তা-বে এলাকার কেউ কথা বলার সাহস পায় না। আমাদের ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের লোকদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। আমরা এখন খেয়ে না খেয়ে কোনোরকম বেঁচে আছি।’

আট মাস ধরে জমিতে ধান চাষ করতে না পেরে গত ২৭ আগস্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন আলমগীর হত্যা মামলার আসামি ও ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক আব্দুস সালাম। তিনি সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের একমাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এবিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটা সংঘর্ষ হয় এবং সেখানে একজন নিহত হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা রয়েছে।’ তবে কৃষকরা জমিতে যেতে পারছে না বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আবেদনটি আমার নজরে আসেনি। কোনো জমি অনাবাদি থাকবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আর এখানে প্রাথমিকভাবে জানতে পারলাম একজন ইউপি মেম্বার জড়িত। তিনি স্থানীয় সরকারের একটা অংশ। আমার রাষ্ট্রের উৎপাদন নষ্ট করে একজন জনপ্রতিনিধি সহযোগিতা না করে সেখানে উল্টো জনগণকে আরও উসকে দিচ্ছেন।’ তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত