বুলবুল মোকাবিলায় সাতক্ষীরায় সেনা মোতায়েন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৪

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে শনিবার বিকাল থেকে সেনা সদস্যদের কাজ করতে দেখা গেছে। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে যে কোনো সময় বাংলাদেশের সমুদ্র তীরে আঘাত হানবে বুলবুল। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জেলা প্রশাসনও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

এদিকে বুলবুলের প্রভাবে শনিবার সকাল থেকেই জেলাজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বিকালে বৃষ্টি কমলেও বইছে দমকা হাওয়া। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০নং সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। সকাল থেকেই শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনি, আটুলিয়া, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষদের সাইক্লোন শেল্টারে আনা শুরু হয়। শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্ম পুকুরের মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনার জন্য যশোর থেকে আসা সেনাসদস্যরা বিকাল থেকে কাজ শুরু করেন।

বিকাল চারটা পর্যন্ত ৯২ হাজার নারী , পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক দাবি করেছেন।  

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন এরই মধ্যে ২৭০ টি আশ্রয়শিবির প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১২৫২ টি স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ফাঁকা করে রাখা হয়েছে। জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে একটি করে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গত মানুষদের সহায়তায় কাজ করছে ২২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তায় ৩০০ মেট্রিক টন  চাল, ২৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, পানীয় জল, ওষুধপত্র, পাঁচ লাখ ১০ হাজার নগদ টাকা মজুদ  রাখা হয়েছে। রেডক্রিসেন্ট ,  স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, মেডিকেল টিম, নৌ ও স্থলযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে পুলিশ, বনবিভাগ ,কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও বিজিবির পক্ষ থেকেও উপকূলীয় এলাকায় বুলবুল মোকাবেলায় আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

এদিকে ঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন মাহমুদা, চুনি, কালিন্দি, কপোতাক্ষ ও থোলপেটুয়া নদীতে পানি বেড়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষজন ও যানবাহন চলাচল কমেছে। এর মাঝেই মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চলে।

জেলার ৮৫৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে আশাশুনির প্রতাপনগরের চাঁকলা, শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের দাঁতিনাখালি, মাদিয়া, পুশ্চিম দুর্গাবাটি, গাবুরার ডুমুরিয়া, পদ্ম পুকুর, কৈখালি, কাশিমাড়ি, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ছোটভেটখালি শেখপাড়া ও রমজাননগরের একাংশসহ ৭০টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানা গেছে।

 ঢাকাটাইমস/০৯নভেম্বর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :