দাভোস সম্মেলন: একে অপরকে বিঁধলেন ট্রাম্প-গ্রেটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ১৩:৪৭ | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ১২:১২

মতের মিল না হওয়ায় একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন করে বিশ্বের সাড়া জাগানো সুইডিশ তরুণী গ্রেটা থানবার্গ। সুইজার‍ল্যান্ডের দাভোস সম্মেলনে ফের একবার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। সম্মেলনের বক্তৃতায় নাম উল্লেখ না করে একে অপরকে খোঁচা দিয়ে কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার থেকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তৃতায় গ্রেটার নাম উল্লেখ না করে বলেন,  আগামী দিনের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে হলে আমাদেরকে জলবায়ু নিয়ে যারা সবসময় ‘অশুভ কিছু ঘটা’ এবং বিশ্বে ‘বিপর্যয় ঘনিয়ে আসার’ চিন্তা করে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে তিনি আগামী দশ বছরে এক ট্রিলিয়ন গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। আধা ঘণ্টার বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন। এসময়  ট্রাম্প জলবায়ুকর্মীদের ‘নৈরাশ্যবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক চিন্তার সময়।

ট্রাম্পের বক্তৃতার পর গ্রেটা সম্মেলনে বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে জলবায়ু বিষয়ে নেতাদের আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান। ট্রাম্প যে গাছ লাগানোর কথা বলেছেন সে বিষয়ে গ্রেটা বলেন, শুধুমাত্র গাছ লাগিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং অবিলম্বে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে।

জলবায়ুকর্মীদেরকে ‘নেতিবাচক’ বলে সমালোচনা করা আর কাজের কাজ কিছুই না করে বসে থাকা কোনো সমাধান নয় উল্লেখ করে গ্রেটা বিশ্ব নেতাদেরকে তরুণদের কথা শোনার আহ্বান জানান। আগের বলা কথার পুনরাবৃত্তি করে গ্রেটা বলেন, ‘আমাদের বাড়ি এখনো পুড়ছে। আপনারা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার কারণে আগুনের শিখা আরো বাড়ছে’।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প এবং গ্রেটা দুইজনই। তবে সে সময় একে অপরকে দূর থেকে দেখলেও কেউ কারো সাথে কথা বলেননি। ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেননি গ্রেটা। আর ট্রাম্প পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও গ্রেটাকে যেন লক্ষ্যই করেননি এমনভাবে চলে গিয়েছিলেন।

জাতিসংঘে দেয়া গ্রেটার বক্তব্যের পর ট্রাম্প এক টুইটে তাকে নিয়ে উপহাস করেছিলেন৷ তিনি লিখেছিলেন, ‘তাকে দেখে খুব সুখী মেয়ে মনে হয় যে, একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে৷ দেখে খুব ভালো লাগছে’। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সাবেক কমিউনিকেশন্স ডাইরেক্টর ট্রাম্পের এই টুইটের সমালোচনা করে বলেছিলেন, একজন ১৬ বছর বয়সীর পেছনে লাগা ট্রাম্প তার কাজের জন্য যোগ্য নন৷

গত ডিসেম্বরে টাইম ম্যাগাজিন গ্রেটাকে ‘পারসন অফ দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিল৷ এরপর আবারো গ্রেটাকে নিয়ে টুইট করেছিলেন ট্রাম্প৷ তিনি লিখেছিলেন, ‘গ্রেটাকে অবশ্যই তার রাগ ব্যবস্থাপনা (অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট) সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হবে৷ এরপর তার একজন বন্ধুকে নিয়ে পুরোনো ভালো মুভি দেখতে যাওয়া উচিত’।

ঢাকা টাইমস/২২ডিসেম্বর/একে

 

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :