উহানের চেয়ে বড় হাসপাতাল করবে বসুন্ধরা গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ২২:৩২ | প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০২০, ২১:০২
১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর

মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির (আইসিসিবি) হাসপাতাল তৈরিতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বসুন্ধরা গ্রুপের আনুষ্ঠানিক চিঠির জবাবে তিনি প্রাথমিক এই সম্মতির কথা জানান। কীভাবে হাসপাতাল হবে তা খুব দ্রুত চূড়ান্ত হবে। চীনের উহানের চেয়ে বড় হাসপাতাল হবে এটি।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে রবিবার ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর।

ত্রাণ তহবিলে চেক হস্তান্তরের সময় সায়েম সোবহান আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল করার এ চিঠিটি হস্তান্তর করেন।

চিঠিতে বসুন্ধরা গ্রুপ জানায়, আইসিসিবিতে চারটি কনভেনশন সেন্টার ও একটি ট্রেড সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কনভেনশন সেন্টারটির আয়তন ৩০ হাজার স্কয়ার ফুট, বাকি তিনটির প্রত্যেকটির আয়তন ২৪ হাজার স্কয়ার ফুট এবং ট্রেড সেন্টারটি দেড় লাখ স্কয়ার ফুট আয়তনের। এই কনভেনশন সেন্টার পুরো শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। এখানে আলাদা টয়লেট, রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। সবুজে ঢাকা এই কনভেনশন সেন্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ঝকঝকে। যেকোনো সময় এখানে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করা যাবে।

চীনের উহানে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল অবকাঠামো তৈরি করতে হয়েছিল চীনা সরকারকে। উহানে তিনটি হাসপাতাল মিলে শয্যা সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৫০০টি। সেখানে আইসিসিবিতে পাঁচ হাজার শয্যা স্থাপন করা সম্ভব।

আরও যারা অনুদান দিয়েছেন

বসুন্ধরা গ্রুপ ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান এবং পিপিই ও মাস্ক প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সেনাবাহিনী ২৫ কোটি টাকা, নৌ বাহিনী চার কোটি ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩ টাকা, বিমান বাহিনী এক কোটি ২০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন এক কোটি টাকা, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এক কোটি টাকা অনুদান দেয়।

এছাড়া ওরিয়ন গ্রুপ তিন কোটি টাকা, নাভানা গ্রুপ ২৫ লাখ টাকা, হোসাফ গ্রুপ ৫ কোটি টাকা, আবুল খায়ের গ্রুপ ৫০ লাখ টাকা, সামিট পাওয়ার লিমিটেড তিন কোটি টাকা, কনফিডেন্স পাওয়ার কোম্পানি তিন কোটি টাকা, দি ওয়েস্টিন হোটেল দুই কোটি, লা মেরিডিয়ান দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান করে। সিএমসি-চায়না ১ মিলিয়ন মাস্ক, ১০ হাজার পিপিই এবং কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স ১০ হাজার পিপিই প্রদান করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সীমান্তরক্ষা বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও এসোসিয়েশনের মহাসচিব, জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২৯মার্চ/টিএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :