‘এরা মিষ্টভাষী আততায়ী নয়, একটু সোজাসাপ্টা মাথাগরম নাগরিক’

চাঁদপুর-কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া একসময় একই জেলা ছিল। এখন স্বতন্ত্র হলেও আমরা একই বৃন্তে তিনটি ফুল হিসেবে বৃহত্তর কুমিল্লাই মানি। শান্তশিষ্ট চাঁদপুরের সাথে অভিভাবক কুমিল্লা এবং ডানপিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরস্পর সমার্থক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একসময় যাওয়া আসা ছিল অন্যান্য জেলার চেয়ে একটু বেশিই। আড্ডা কিংবা খেলায় আমার প্রিয় জায়গা। সেখানে জানদার বন্ধুর সংখ্যাও কম নয়। বেড়ে উঠতে উঠতেই দেখেছি তাদের আন্তরিকতা। কঠিন আষাঢ়ীর মতো (কাঁচা তাল) ভিতরে যেমন নরম শাঁস থাকে ওখানকার মানুষ আসলে তেমনই। না মিশলে বোঝা মুশকিল। সব জায়গায় খারাপ ভাল মানুষ আছে।
একজন বুজুর্গ হুজুরের জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলা নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার আগে নিজেদের জেলার পূর্বাপর ইতিহাস ঘেঁটে দেখা উচিত ছিল। সঙ্গে শুদ্ধ বানানটাও জানতে হতো। করোনার কারণে সেই জানাজা নিয়ে আমিও ক্ষোভ নিয়ে লিখেছি তবে শালীনতা বজায় রেখে।
ঘটনার দিন আমার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধু চপলকে দেখলাম ফেসবুকে উকিল খুঁজছে জেলা নিয়ে তাচ্ছিল্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যাপারে। পরে দেখি কেইস লিস্টে মারজুক রাসেলের নামও আছে। আমি তাকে ফোন করে বললাম মারজুক এই কাজ জীবনেও করবে না, এটা ফেক আইডি থেকে করা হয়েছে। সে সঙ্গে সঙ্গে আমার মাধ্যমে মারজুকের কাছে ক্ষমা চেয়েছে অথচ কোনো মামলা তখনও হয়নি। এটা একটা ভব্যতার উদাহরণ।
বাড়ির মাথা গরম ছেলেটা যখন বুঝে তার কারণে পরিবারের সুনামহানি হতে পারে এবং নিজেকে গুটিয়ে নেয় তখন আমাদেরও বুঝে নিতে হবে কি করা উচিত অনুচিত। দুষ্টামি মজা রসিকতা করতে করতে ঐতিহ্যের অস্তিত্বে হাত পড়ে গেল যা করা দরকার তারা ঐক্যবদ্ধভাবে তা করেই বাংলাদেশকে দেখিয়েছে। আমিও বন্ধুদের জংলি বলে ক্ষেপাই তবে দিনশেষে সম্মানের জায়গাটা বোঝার চেষ্টা করি আত্মসম্মান রক্ষার্থে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্য। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই জেলার ভূমিকা নি:সন্দেহে ঈর্ষণীয়। আজ এই করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদসহ উপাসনালয় পরিবহন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিছু অফিস ছাড়া সবকিছুই লকডাউন বিধির বাইরে। মনে হয় দেশে ঈদের আনন্দ চলছে।এমনও না যে সেই জানাজার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার মহামারি শুরু হয়েছে, তবে ভুল হয়েছে এই বিষয়ে তারাও অনুতপ্ত।
এটা নিয়ে খোঁচাতে খোঁচাতে আমরা তাদের ইগোতে হাত দিয়ে দিয়েছি। তারাও দেখিয়ে দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ান জাতীয়তাবাদ কাকে বলে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। এরা মিষ্টভাষী আততায়ী নয়, একটু সোজাসাপ্টা মাথাগরম নাগরিক। আমি কুমিল্লাবাসী হিসেবে ইতর শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তাদের মত গর্জে উঠতে ব্যর্থ। আসুন এভাবে সবাই নিজ নিজ জেলাকে ভালোবেসে নিজেদের শুধরে নেই। প্রত্যেক জেলার মানুষের নিজেদের প্রতি ভালোবাসা অনুভব শুরু করলে সেগুলো দেশের স্কোরবোর্ডেই যুক্ত হবে। এতে দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য বাড়বে বৈ কমবে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়াবাসীর জন্য শুভকামনা...
লেখক: সঙ্গীতশিল্পী
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































