আটদিনেও সরেনি গাছ, ঘর ছেড়ে স্কুলের বারান্দায় সংসার!

এনাম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৪ জুন ২০২০, ২০:১২

বসত বাড়ির ওপর ঝড়ে উপড়ে পড়া শতবর্ষী সরকারি বটগাছ আট দিনেও অপসারণ করা হয়নি। ফলে ঘর ছেড়ে আটদিন ধরে বিদ্যালয়ের বারান্দায় মানবেতর জীবনযাপন করছে দরিদ্র কৃষক পরিবারটি। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আমজানী গ্রামে। গত ২৬ মে বগুড়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে বটগাছটি ভেঙে পড়েছিল।

কী ঘটেছিল ওই রাতে? গত ২৬ মে রাত ১১ টা। নিজের পরিবার নিয়ে তখন ঘুমিয়ে ছিল বগুড়ার শিবগঞ্জের আমজানী গ্রামের দরিদ্র কৃষক সাদেক আলী। হঠাৎ শুরু হয় দমকা হাওয়া। এরপর কালবৈশাখী ঝড়। বাতাসের গতি আর টিনের চালায় বৃষ্টির প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে যায় সবার। পরে ঘর ছেড়ে সবাই বের হয়ে আশ্রয় নেয় পাশের বিদ্যালয়ের বারান্দায়। বাড়ির পাশেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী বটগাছ যেটি এক সময় তাদের ছায়া দিতো, বাতাস দিতো, প্রবল বাতাসে সেটি উপড়ে পরে ঘরের ওপর। মুহূর্তেই দুমড়ে মুচড়ে যায় বসত বাড়ির ৫টি ঘর। নষ্ট হয়ে যায় ঘরের সব আসবাবপত্র।

পরদিন স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মী ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সঙ্গে কথা বললে বন বিভাগ অতি দ্রুত গাছটি অপসারণ করবেন বলে আশ^াস দেন তিনি। সেটি আশ^াসের বৃত্তেই রয়ে গেছে। ঘটনার আটদিন পর সরেজমিনে ওই গ্রামে গেলে বসত বাড়ির ওপর গাছটি পড়ে থাকতে দেখা যায় আগের মতোই। অসহায় পরিবারটি নিরুপায় হয়ে আশ্রয় নিয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায়। শিশু সাহেদ, মনিরা ও জায়েদকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

এ ব্যাপারে কৃষক সাদেক আলীর ছেলে মামুন মিয়া বলেন, ‘গাছটি পড়ার সময় আমরা প্রাচীর টপকে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। বাড়ির উপর বড় বট গাছ থাকায় বেশি ঝড় উঠলে আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই ডাল যদি ভেঙে পড়ে এই ভয়ে। বের হওয়ার সময় পরনের কাপড় ছাড়া সাথে কিছু নিতে পারিনি। এখন খোলা আকাশের নিচে স্ত্রী সন্তান ও গরু-বাছুর নিয়ে খুব কষ্টে আছি। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও সাহেবের কাছে বলেও কোন লাভ হয়নি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় দুজন আওয়ামী লীগ নেতা আমাদের নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। আমাদের কেউ যেনো সাহায্য না করে সে জন্য কাজ করছেন। আমরা ঘরে ফিরতে চাই। দয়া করে গাছটি অপসারণ করে আমাদের বসবাসের ব্যবস্থা করে দিন।’

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে কিছু ডাল পালা কেটে দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু গাছটি অপসারণের ন্যূনতম চেষ্টাও আজ পর্যন্ত করা হয়নি। উপরোন্তু গাছটি অপসারণ নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনীতি।

এ ব্যাপারে ওই গ্রামের খোবাইব নামের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘গাছটি অপসারণ নিয়ে দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছে গাছ অপসারণে সাহায্যের জন্য স্কুলের সভাপতি ও মোকামতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান দুলা সরদারকে না বলে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজুকে বলায় গাছটি সরানো হচ্ছেনা।’

জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ রিজু ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি জেনেছি খুব শিগগির ইউএনও মহোদয়ের মাধ্যমে গাছটি অপসারণ করা হবে।’

আমজানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ফজলুর রহমান দুলা সরদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘গাছটি অপসারণের জন্য ইউএনও বরাবর আবেদন করা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপের আশ^াস দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর কবির ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে অতি দ্রুত গাছটি অপসারণ করা হবে। পরিবারটি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে, এটা আমরা জানি।’

(ঢাকাটাইমস/৪জুন/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :