নিষেধাজ্ঞা থোড়াই কেয়ার করে কর্ণফুলীর বুকে বরফকল

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ১৮:৪২ | প্রকাশিত : ২৩ জুলাই ২০২০, ১৮:২৩

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের এক সময়ের ‘লাইফ লাইন’ ও এখনকার ‘দুঃখ’ খ্যাত চাক্তাই খালের মোহনায় অবৈধভাবে তৈরি করা হচ্ছে বরফকল। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, জেলা প্রশাসন, ভূমি অফিসের নোটিশ কোনও কিছুরই তোয়াক্কা না করে সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতি নামের গজিয়ে ওঠা একটি সংগঠন এই বরফকল তৈরি করছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী শাহ আমানত সেতুর মাঝ পিলার বরাবর কর্ণফুলী নদীর প্রায় বুকেই এই বরফকলের পাশাপাশি গুদামও তৈরি করা হচ্ছে। করোনা মহামারীতে প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে রাতারাতি এসব অবৈধ স্থাপনা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতি বরফকলটি চালু করতে সম্প্রতি নতুন করে কাজ শুরু করেছে। চাক্তাই খালের মোহনায় জেগে ওঠা চরের জমি অবৈধভাবে দখল নিয়ে বরফকল ছাড়াও এখানে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করছে দখলদাররা।

জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর শাখা রাজাখালী ও চাক্তাই খালের মোহনার ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৬৩ বর্গফুট জেলা প্রশাসনের খাস জায়গা বন্দরের দাবী করে যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতি নামের সংগঠনের নামে মাছের আড়ৎ স্থাপন করা হয়।

অবৈধভাবে গড়ে উঠা মাছের আড়ৎসংলগ্ন কর্ণফুলী নদী দখল করে ২০০০ বর্গফুটের একটি বরফ কলসহ আরও ২০০০ বর্গফুটের একটি গুদাম স্থাপন করা হয়। অবৈধ বরফকলটির নির্মান কাজ বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোর্শেদ, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সিডিএ চেয়ারম্যান, বন্দর চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবরে হাইকোর্টের রিট মামলার রেফারেন্সসহ উক্ত স্থাপনা বন্ধে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়ে ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল পত্র দেয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক ২৩ এপ্রিল ২০১৮ সালে সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদককে পরিবেশ অনুমতি ব্যতীত জলাশয় ভরাট করার অপরাধে শুনানিতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। পরদিন ২৪ এপ্রিল ওই শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে উক্ত পত্র এবং নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

এদিকে করোনাকালে প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে বরফকলের পাশে দুই হাজার বর্গফুটের আরেকটি গুদাম তৈরি করা হয়। মৎস বন্দর বরফকল ও গুদাম স্থাপনার কারণে ওই এলাকায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ চাক্তাই খাল ৫০০ ফুট হয়ে হয়ে গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরীর কাছে বরফকল ও গুদাম তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। দুই একদিনের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক সরকার বাবুলের কছে বরফকল নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এক ঘন্টা পরে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/২৩জুলাই/ব্যুরো/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বন্দর নগরী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :