পরিবারের কাছে ফিরতে চায় গোপালগঞ্জের জুথী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট ২০২০, ২০:৪৩
অ- অ+

মেয়েটি উচ্চ শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। নাম সুলতানা জুথী। কথাবার্তা চালচলনে অত্যান্ত ভদ্র, মার্জিত ও স্মার্ট। ইংরেজিতে শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে পারেন। তার সঙ্গে কথা বললে কারো মনে হবে না তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরছেন তিনি।

মাঝে মধ্যে মানুষের কাছে একটা সিগারেট চেয়ে খান। নিজের কথা নিজের মনমতো বলতে ভালোবাসেন। কিন্তু কেউ তাকে কোনো প্রশ্ন করলে বিরক্ত হন এবং তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। অন্যের কোনো কথা শুনতে চান না। তার কথা বার্তার মধ্যে কোনো জড়তা বা খুব একটা এলোমেলো পাওয়া যায় না। তবে দুই-একটা কথায় কিছুটা এলোমেলো পাওয়া যায়। তার সঙ্গে কথা বলে যতোটুকু জানা গেছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এই প্রতিবেদক।

মেয়েটির বাবা মৃত জাফর আলী খান আনসার ভিডিপির অফিসার ছিলেন। মা মৃত সেলিনা খানম গৃহিণী ছিলেন, ২০০১ সালে মারা যান। মেয়েটির বিয়ের পর বাবা ২০০৫ সালে মারা যান। মেয়েটির দুজন আপন বড়ভাই আছেন, তারাও মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। একজন জাকারিয়া খান (রাজু) ঢাকায় রাজনীতি করেন। গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে।

উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া অবস্থায় জুথীর বিয়ে হয়। স্বামী আবু কাওসাঁর সোহেল ঢাকায় বায়োফার্মার ওষুধ কোম্পানি আইটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। বিয়ের পর তার দাম্পত্যজীবন অনেক সুখে শান্তিতে কাটছিল। তাদের ঘরে একটি ফুটফুটে মেয়ে সন্তানেরও জন্ম হয়। সন্তানের নাম আয়েশা আক্তার প্রীয়তা। বর্তমান বয়স ১২ বছর। স্বামী সন্তান নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় ভাড়া বাসায় সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন।

মেয়েটি বিয়ের পর ইডেন কলেজ থেকে বোটানিতে অনার্সসহ মাস্টার্স করেন।

মেয়েটির মানসিক সমস্যা দেখা দিলে স্বামী তাকে ছেড়ে তার সন্তান নিয়ে চলে যান। অবশ্য তিনি আবার জানান, স্বামীকে নিজেই তালাক দিয়েছেন এবং এরপর বন্ধুদের নিয়ে ইমপোর্ট-এক্সপোর্টের ব্যাবসা শুরু করেন জুথী। বন্ধুদের সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা টাকা বন্ধুরা আত্মসাৎ করে নেন। এরপর টাকা ও মেয়ের চিন্তায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বাবা-মা হারা সংসারে ভাইয়েরাও দেখাশুনা করেন না। তাই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান।

রাতে কোথায় থাকেন জানতে চাইলে বলেন, মহিলা কলেজের হোস্টেলে। কিন্তু তিনি তার এই অবস্থার জন্য তার পরিবারের কাউকে দোষারোপ করেন না। তিনি বলেন, আমার এই পরিস্থিতির জন্য আমি নিজেই দায়ী। তিনি বলেন, ‘অহংকার পতনের মূল। আমি ভীষণ অহংকারী ছিলাম। আল্লাহ তাই আমাকে এমন বানিয়েছে।’

এই প্রতিবেদককে ফেসবুক ব্যবহার করতে দেখে জুথী বলেন, ‘আমারও একটি ফেসবুক আইডি আছে’। এসময় তার ফেসবুক আইডিতে লগইন করার চেষ্টা করেও পাসওয়ার্ড মনে করতে না পেরে আর হয়নি। তারপর তিনি বললে তার ফেসবুক পেজটি (facebook.com/Juthee-Sultana-priyota-435618006852425) খুঁজে পাওয়া যায়।

জুথী এখন অনুতপ্ত। সুন্দর জীবনে আবার ফিরে যেতে চান। আবার স্বামী, সন্তান সংসার নিয়ে থাকতে চান। কিন্তু তাকে তাঁর স্বামী, সন্তান সংসার ফিরিয়ে দেবে? তাকে সাহায্য কে করবে?

তিনি দুঃখ করে বলেন, সামান্য একটা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) উঠাতে পারছি না। যেখানে যাই আমাকে পাগল বলে তাড়িয়ে দেয়। আমার একটা বাংলালিংকের সিম ছিল, হারিয়ে ফেলেছি। সেটিও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) ছাড়া উঠাতে পারছি না। ফোনটি থাকলে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতাম।

জুথী বলেন, সরকারিভাবে কোনো অনুদান পাচ্ছি না। একটি অনুদানের কার্ড করতে জাতীয় পরিচয়পত্র চায়। কিন্তু আমি তা হারিয়ে ফেলেছি। তিনি দুঃখ করে আরও বলেন, আমি গোপালগঞ্জ নির্বাচন কমিশনের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য কয়েকবার গিয়েছি। আমাকে কোনো পাত্তা দেয় না। পাগল বলে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে মেয়েটি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। তার থাইরডের সমস্যা। হাত পা ফুলে গেছে। চলাফেরায় খুব কষ্ট হয়। সারা শরীর ব্যথা। তার শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন। মনে হয় সামান্য কাউন্সিলিং করলে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।

জুথী তার স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে চায়। তার আকুতি- ‘আমার কলিজার টুকরা মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে একবার ঘুমাতে পারলে আমার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’।

(ঢাকাটাইমস/৫আগস্ট/কেএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সাতকানিয়ায় পৃথক ঘটনায় পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু
মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
জামালপুরে আসামি গ্রেপ্তারের সময় স্বজনদের হামলায় ৪ পুলিশ আহত
সোনারগাঁয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রত্যয়ন দেওয়ার অভিযোগ