ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফর নিয়ে হইচই

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন থেকে
| আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫০ | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৬

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের গোপনে ইতালি সফর নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ইতালির লা রিপাবলিকা পত্রিকা ও কয়েকটি স্থানীয় সাপ্তাহিকের উদ্ধৃতি দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করলে দেশজুড়ে হইচই শুরু হযে যায়।

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ও ব্রিটিশ মন্ত্রীরা তা অস্বীকার করছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, জনসনের ইতালি সফরের খবর ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। এক বিবৃতিতে ইতালির আমব্রিয়া অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও তার এ সফরের কথা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ও তার কেবিনেট সদস্যরা কেন তা অস্বীকার করছেন এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

ইতালির লা রিপাবলিকা পত্রিকার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বার্সেলোনার ফুটবল খেলোয়াড় লুইস সুয়ারেজ ১৭ সেপ্টেম্বর পেরুগিয়া শহরে ভ্রমণ করার পরপরই সেখানে যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। শহরটির বিমানবন্দর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সুয়ারেজের পাশাপাশি বরিস জনসনও সাম্প্রতিক দিনগুলোয় শহরটিতে সফর করেছেন।

তবে ইতালিয়ান দৈনিক লা রিপাবলিকা জানিয়েছে, জনসনের সফর সম্পর্কে আরও খতিয়ে দেখেছে তারা। পেরুগিয়ার সান ফ্রানসেসকো ডি’আসিসি বিমানবন্দর জানিয়েছে, সুয়ারেজের আগের সপ্তাহেই সেখানে অবতরণ করেন জনসন।

বিমানবন্দরের এক কর্মীকে উদ্ধৃত করে লা রিপাবলিকা জানায়, ১১ সেপ্টেম্বর বা তার আগের দিন শহরটিতে পৌঁছান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। অন্য একটি সূত্রও জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় সেখানে অবতরণ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বৃটেনে ফেরত যান ১৪ সেপ্টেম্বর।

স্বাভাবিক কারণেই তার এ সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেননা, এর আগেও এমনটা করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে সেখানে গোপনে সফর করেছিলেন বরিস জনসন। সান ফ্রানসেসকো ডি’আসিসি বিমানবন্দরে তার অবস্থানের ছবিও সেসময় প্রকাশ করেছিল। ছবিতে তাকে কিছুটা উস্কখুস্ক দেখাচ্ছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, মিডিয়া বিলিয়নায় ও সোশ্যালাইট ইভগেনি লেবেদেভের মালিকানাধীন পালাজ্জো টেরানোভা প্রাসাদে অবস্থান করেছিলেন তিনি।

টেরানোভা বিলাসবহুল আয়োজনের জন্য পরিচিত। ২০১৮ সালের সফরের ওই ছবি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই সেখানে গিয়েছিলেন বরিস জনসন। তার সে সময়ের গোপনে ইতালি সফরের বিষয়ে এক সহযাত্রী জানিয়েছিলেন, জনসন একাই যাত্রা করেছেন। তার সঙ্গে কোনো লাগেজও ছিল না। সমালোচকরা বলছেন ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনর দরকা্ষাকষি চলছে। দেশেও তিনি প্রশ্নের সম্মুখীন। হয়তোবা এ কারণেই তিনি গোপনে সেখানে যেতে পারেন।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :