কৌতুক পোস্ট: ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে জিডিটাল আইনে মামলা

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০২১, ২০:২৭

মদ ও দুধ সম্পর্কিত প্রচলিত একটি কৌতুক ফেসবুকে শেয়ারের পর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জামিন অযোগ্য দুটি ধারায় মামলা করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের এক নেতা।

রবিবার শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অমিত ভৌমিক।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হাফিজুর রহমান কার্জন সনাতন ধর্মের ভগবানকে হেয়প্রতিপন্ন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন, যা সারা বিশ্বে কোটি কোটি সনাতন ধর্মীয়দের অনুভূতিতে ব্যাপক আঘাতের শামিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল এবং সরকারকে বিব্রত করার মানসে স্বজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় হাফিজুর রহমান কার্জন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক কুরুচিপূর্ণ এ পোস্ট করেছেন।

মামলার বিষয়ে অমিত ভৌমিক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঢাবি শিক্ষক কার্জনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শাহবাগ থানায় আমরা গত ২৪ জুলাই প্রথম মামলা করি। পরে মামলাটিকে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠানো হয়। পরে আমরা জানতে পারি মামলাটি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটেও ঘুরে আসে। সবকিছু মিলিয়ে তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে।

ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক সচেতনাতা ও দেশের সাম্প্রদায়িকতা নষ্ট এই বিষয়গুলোর কারণে তার বিরুদ্ধে গত ১ আগস্টে শাহবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ ও ৩১ ধারায় দুটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করেছি।

তিনি আরও বলেন, যদিও কার্জন সাহেব লেখাটাকে কালেক্টেড বলে দাবি করছেন। কিন্তু, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এই বোধটা থাকা জরুরি যে আমি যখন নিজের ফেসবুক ওয়ালে কিছু লেখা ছাড়ছি সেটা কালেক্টেড হোক আর বা যা-ই হোক না কেন সেটার দায়ভার নিজেকেই নিতে হবে।

মামলার বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হালদারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ফেসবুক পোস্টটা আমার নিজের না। অন্য জায়গা থেকে এটিকে আমি আমার ফেসবুকে শেয়ার করেছি৷ এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। এটির জন্য ইতোমধ্যে আমি ক্ষমা প্রার্থনাও করেছি। সেখানেই বিষয়টা থেমে যাওয়া উচিত ছিল। এরপরও মামলা করা হয়েছে অসৎ উদ্দেশে আমাকে হয়রানি করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারও ধর্মে আঘাত দেয়া আমার ব্যক্তিগত নৈতিকতা বিরোধী। তবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখন যেহেতু মামলা হয়েছে, আইন যেভাবে বলবে সেভাবে আমি নির্দেশনা মেনে চলব।

‘তবে আমার একটি মানবিক আবেদন, আমি করোনায় আক্রান্ত। বর্তমানে বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছি৷ এ বিবেচনায় আমাকে যেন কোনো হয়রানি না করা হয়।’

গত ২৩ জুলাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভগবানকে নিয়ে মদ ও দুধ সম্পর্কিত প্রচলিত একটি কৌতুক ফেসবুকে শেয়ার করেন তিনি।

পোস্টটি শেয়ারের পরে তার বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়। ২৪ জুলাই দুপুরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হাফিজুর রহমান কার্জনের পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদ। থানায় জিডি হওয়ার পর অধ্যাপক কার্জন পোস্টটি ডিলেট করে দেন এবং ক্ষমা চান।

(ঢাকাটাইমস/০৩আগস্ট/আরএল/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :