ডেল্টার চেয়ে তিন গুণ পুনঃসংক্রমণ ঘটাতে পারে ওমিক্রন!

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:০৩
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন এর আগের ধরন ডেল্টা ও বিটার চেয়ে তিন গুণ বেশি পুনঃসংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে দাবি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক এক সমীক্ষায় তারা এ কথা বলেন।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত তথ্য উপাত্ত এবং প্রথম মহামারিসংক্রান্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পূর্বের সংক্রমণ থেকে ইমিউনিটি এড়াতে ওমিক্রনের সক্ষমতা যাচাই করে এই ফলাফল পান দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা।

এই গবেষণা প্রতিবেদন রিভিউয়ের আগে মেডিকেল সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে। এখনো গবেষণার পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়নি।

গত ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত ২৮ লাখ লোকের মধ্যে ৩৫ হাজার ৬৭০ জন পুনঃসংক্রমিত হয়েছেন। ৯০ দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত হলে সেগুলোকে পুনরায় সংক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডিএসআই-এনআরএফ সেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন এপিডোমিওলজিক্যাল মডেলিং অ্যান্ড এনালাইসিস পরিচালক জুলিয়েট পুলিয়াম এক টুইটে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক পুনঃসংক্রমণ এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটেছে যাদের প্রাথমিক সংক্রমন পূর্ববর্তী তিনটি করোনা ঢেউ জুড়ে ঘটেছে। এদের মধ্যে ডেল্টা ভেরিয়েন্টে সংক্রমিতরা বেশি পুনঃআক্রান্ত হয়েছে।’

এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘যাদের পূর্ব সংক্রমণের ইতিহাস রয়েছে এবং ওমিক্রন সংক্রমণের তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কিত তাদের ডাটা জরুরিভাবে প্রয়োজন।’

তবে আক্রান্ত সেই ব্যক্তিদের কতজন করোনা টিকা নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য এখনো বিশ্লেষণ করা হয়নি। ফলে টিকার প্রতিরোধ এড়াতে ওমিক্রন কতটা সক্ষম, সে বিষয়টি এখনো মূল্যায়ন করা যায়নি।

জুলিয়াম জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত সমীক্ষার কাজ চলছে। প্রথম সংক্রমণের ক্ষেত্রে ডেল্টা রূপের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ওই রিপোর্টে যা-ই দাবি করা হোক, বিশেষজ্ঞদের একাংশও বলছেন, ওমিক্রন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। গবেষণা চলছে। ফলে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে সচেতনতা জরুরি।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ‘ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজ়িজ় প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’ (ইসিডিসি) জানিয়েছে, যে গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন, শিগগির ডেল্টাকে সরিয়ে এটিই বিশ্বে ‘ডমিন্যান্ট’ বা মূল সংক্রামক স্ট্রেন হয়ে উঠবে।

ভাইরাসটির ম্যাথামেটিকাল মডেলিং দেখে ইসিডিসির বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে গোটা ইউরোপের অর্ধেক করোনা সংক্রমণের জন্যই দায়ী হবে ওমিক্রন। যত দ্রুত এটি ছড়াবে, তত তাড়াতাড়ি ডেল্টাকে সরিয়ে এটিই মূল সংক্রামক হওয়ার আলামত স্পষ্ট হচ্ছে।

ইসিডিসির ডিরেক্টর অ্যান্ড্রিয়া অ্যামন বলেন, ‘এখনো অনেক কিছু অজানা। ফলে পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। সংক্রমণের গতি যতটুকু কমানো সম্ভব, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। টিকাকরণের গতি বাড়ানো হচ্ছে। বুস্টার ডোজ় দেওয়ার কাজও চালু রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসা পদ্ধতির বাইরে যে দায়িত্বগুলো রয়েছে, সেগুলো মাথায় রাখা প্রয়োজন। যেমন, পারস্পরিক দূরত্ববিধি বজায় রাখা, মাস্ক পরা, ঘরের মধ্যে হাওয়া চলাচল ঠিক রাখা ইত্যাদি।’

(ঢাকাটাইমস/০৩ডিসেম্বর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :