সেই জাহাঙ্গীর এখন...

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:১১

ঘরোয়া আলোচনায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পর গাজীপুর সিটির মেয়রের পদ হারানো জাহাঙ্গীর আলম ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের বাইরে তিনি পরিবারেই বেশি সময় দিচ্ছেন। জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে গোপনে ধারণ করা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।

এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই ভিডিওর জের ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়ে যায়। গাজীপুরে সরকারি নানা কার্যক্রমে জাহাঙ্গীর আলমকে প্রকারান্তরে এড়িয়ে চলার ঘটনাও ঘটতে থাকে। তার উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে অনড় থাকেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। এ ঘটনায় গাজীপুরের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে মেয়র-সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে কয়েক দফা।

এমন অবস্থায় গত বছরের ৩ অক্টোবর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জাহাঙ্গীর আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ১৮ অক্টোবরের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে এর জবাব দিতে বলা হয়। তিনি জবাবও দেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ‘সুপার এডিট’ করা বলে বারবার দাবি করেন জাহাঙ্গীর আলম।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি ব্যবসায়ী থেকে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়া জাহাঙ্গীরের। ভাইরাল ভিডিওতে তার বক্তব্য নিয়ে ত্রিধাবিভক্ত গাজীপুর আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগে একসময় জাহাঙ্গীরের সুহৃদেরাও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

এমন অবস্থায় গেল বছরের ১৯ নভেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ হারান জাহাঙ্গীর আলম। গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ খোয়ানোর পাশাপাশি দলের সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কৃত হন তিনি। এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, দল এবং মেয়রের পদ হারানোর পর পুরোদমে ব্যবসা-বাণিজ্যে সময় দিচ্ছেন গাজীপুরের সাবেক এই মেয়র। পরিবার, আর নিজস্ব ব্যবসা নিয়ে দিন কাটছে জাহাঙ্গীরের সময়। রয়েছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবসা, জুট ব্যবসা। ব্যবসার সূত্রে চীনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। জাহাঙ্গীর এখন গাজীপুর শহরের নিজ বাসভবনে অবস্থান করেছেন। দলীয় কারো সঙ্গে তার তেমন কোনো যোগাযোগ হয় না। তবে জাহাঙ্গীর অনুসারীরা তার কাছে ছুটে যান।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীর আলম স্কুল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জেলা ছাত্রলীগ ও পরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও স্থান পান। এরপর গাজীপুরের সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান। ২০১৮ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে গাজীপুর সিটির মেয়র হন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/এএ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :