বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিতে বৈশ্বিক চালের বাজার, রপ্তানি মূল্য বাড়াতে পারে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট ২০২২, ১৯:১৫

বিরুপ আবহাওয়ার কারণে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে কৃষি পণ্য উৎপাদনে। আবহাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারতসহ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় চার দেশের দেশের ওপর। বিশ্বের ৯০ শতাংশ চাল উৎপাদন হয় এশিয়ার দেশগুলোতে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

মহামারীর কারণে সরবরাহে বাধা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের মূল্য বেড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে। তাতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি পৌঁছে গেছে রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। এ সময় বিশ্ববাজারে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের গম আসতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলছে, তবে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে ভারতে। দেশটিতে ধানের আবাদ কমায় চালের বাজারে নতুন সংকট তৈরির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের কৃষি অর্থনীতিবিদ ফিন জিবেলের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলিতে উৎপাদন হ্রাসের সম্ভাবনার সঙ্গে উর্ধ্বমুখী চালের দামের সম্ভাবনা রয়েছে। চালের দাম বৃদ্ধি উন্নয়নশীল বিশ্বের কিছু অংশে খাদ্য ক্রয়ক্ষমতার জন্য ইতিমধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ যোগ করবে।’

কৃষক, ব্যবসায়ী এবং বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের শস্যক্ষেত্রে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত, চীনে তাপপ্রবাহ, বাংলাদেশে বন্যা এবং ভিয়েতনামে গুণগত মান হ্রাসের ফলে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ধান উৎপাদনকারীর মধ্যে চারটিতে ফলন হ্রাস পেতে পারে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার অর্থনীতিবিদ শার্লি মুস্তাফা বলেছেন, ‘এই বছরের শুরুতে সামগ্রিক খাদ্যের দাম রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছে গেলেও চাল ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়ে গেছে। আমরা এখন ভারত, চীন এবং বাংলাদেশসহ কয়েকটি প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশে আবহাওয়া-সম্পর্কিত বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করছি, যার ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে উৎপাদন কম হতে পারে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ধান চাষের পরিমাণ ১৩ শতাংশ কমেছে। তিন বছরের মধ্যে আবাদের পরিমাণ কমে সর্বনিম্ন হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশ। দেশটির মোট চাল উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশ আসে এই দুটি রাজ্য থেকে। বিশ্ব বাজারে ভারতের চাল রপ্তানির পরিমাণ ৪০ শতাংশ। এখানে উৎপাদন কমে গেলে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ বাড়বে। দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবেলায় এরই মধ্যে গম ও চিনিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের শীর্ষ ধান উৎপাদনকারী রাজ্য বিহার, ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর প্রদেশে বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৪৫ শতাংশের মতো বৃষ্টিপাতের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে বলে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে।

অল ইন্ডিয়া রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিভি কৃষ্ণা রাও বলেছেন, বৃষ্টিপাতের ঘাটতির ফলে আংশিকভাবে এই বছর ধান রোপণ হ্রাস পেয়েছে ১৩ শতাংশ। যার ফলস্বরূপ গত বছরের তুলনায় ১০ মিলিয়ন টন বা প্রায় ৮ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। এর মধ্যে কিছ কৃষক ধান চাষ ছেড়ে ডাল এবং তৈলবীজ চাষের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে কমে গেছে ধান চাষের এলাকা।

ভিয়েতনামেও ফসল কাটার সময় বৃষ্টি শস্যের গুণমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম চাল ভোক্তা এবং আমদানিকারক চীনেও প্রভাব ফেলেছে বৈরী আবহাওয়া। দেশটির শস্য বর্ধনশীল এলাকায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে ফলনের ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের মতে, দেশটিতে ২০২২-২৩ সালে আমদানি রেকর্ড ৬ মিলিয়ন টনে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে গত বছর চীন ৫.৯ মিলিয়ন টন আমদানি করেছিল।

এদিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ভোক্তা, বাংলাদেশেও বন্যার কারণে ধানের ক্ষতি হয়েছে। এক্ষেত্রে চাল আমদানি করার কথা জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। ভারত ব্যতীত অন্যান্য দেশে ঘাটতির সম্পূর্ণ পরিমাণ এখনও বিশ্লেষক বা সরকারী সংস্থাগুলির মাধ্যমে অনুমান করা যায় নি। দেশগুলি প্রায়শই বছরের শেষের দিকে আউটপুট ডেটা প্রকাশ করে।

উৎপাদনের শঙ্কার মধ্যেই ভারতে চালের মূল্য বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ওডেশাস ও ছত্তিশগরে গত দুই সপ্তাহের চেয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মূল্য বেড়েছে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। এ অবস্থায় দেশটি রপ্তানি মূল্য বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় চালের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্পঞ্জ এন্টারপ্রাইজেজ প্রাইভেটের পরিচালক মুকেশ জাইন। তিনি বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ রপ্তানি মূল্য বেড়ে ৪০০ ডলার হতে পারে। বর্তমানে ফ্রি অন বোর্ড ভিত্তিতে রপ্তানি মূল্য ৩৬৫ ডলার। ’

বিশ্বের একশর বেশি দেশে চাল রপ্তানি করে ভারত। দেশটির প্রধান ক্রেতার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, চীন, নেপাল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ। ইউক্রেন সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে যখন গম নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে, তখন এশিয়ার উৎপাদনের ওপর ভর করে চালের বাজার ছিল স্থিতিশীল, যা বিশ্বের অনেক দেশকেই খাদ্যসংকট থেকে রক্ষা করে।

(ঢাকাটাইমস/৫আগস্ট/এসএটি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :