মাংসের আচারে বাজিমাত বগুড়ার মাসুমার

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:৪৩ | প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:০১

করোনার প্রভাবে দেশে অনেকেই ব্যবসায়িকভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে পুঁজি করে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। তাদের মধ্যে একজন বগুড়ার নারী উদ্যোক্তা মাসুমা আক্তার। তিনি দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে মাংসের আচার তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করে হয়েছেন সাবলম্বী।

স্বামী রাজিবুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসা করছেন মাসুমা আক্তার। তার মাংসের আচার দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৭টি দেশে গেছে। এখনো বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত আচারের অর্ডার আসছে তার কাছে।

মাসুমা আক্তার বগুড়া শহরের কৈগাড়ি পূর্বপাড়া এলাকার রাজিবুল ইসলামের স্ত্রী। তার প্রতিষ্ঠানের নাম আরএম ফুড কর্ণার। মাংসের আচারের পাশাপাশি ঘিসহ বিভিন্ন ধরণের আচার, লাচ্ছা সেমাইয়ের মতো পণ্যও রয়েছে আরএম ফুড কর্ণারের ব্যানারে।

উদ্যোক্তা মাসুমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী বগুড়ার একটি চার তারকা হোটেলে হিসাব বিভাগে চাকরি করতেন। করোনার প্রভাবে আমার স্বামীর চাকরি চলে যাওয়ার পর আমরা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ি। পরিবার নিয়ে আর্থিক অভাবের মধ্যে ডুবে যাবো এমন অবস্থা হয়েছিল। সে সময় আমার শিশু কন্যার মাটির ব্যাংকে জমানো ৩০০ টাকা দিয়ে আলুর চিপস বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি শুরু করি। কিছু টাকা হলে কাপড়ের ব্যবসার মাধ্যমে টাকা উপার্জনের চেষ্টা করি। কিন্তু এই ব্যবসায় ভালো কিছু হচ্ছিল না। পরে মাংসের আচার করে অনলাইনে বিক্রির পরিকল্পনা করি। আচার বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার চালানোর পর ভালো সাড়া পাই। এরপর থেকে আমাদের দুশ্চিন্তা মিলিয়ে যায়।

মাংসের আচারের পরিকল্পনা পেলেন কিভাবে জানতে চাইলে মাসুমা আক্তার ঢাকা টাইমসেকে বলেন, অনলাইনে ব্যবসা করতে গেলে আসলে ইউনিক কিছু না হলে সহজে সফল হওয়া যায় না। আমার কাছে মাংসের আচারটাকে ইউনিক মনে হয়েছে। মাংসের আচার আমি শিখেছি আমার শাশুড়ির কাছে। তার কাছে গল্প শুনেছি, যখন সবার বাড়িতে ফ্রিজ ছিল না ওই সময় কোরবানির ঈদে প্রত্যেকের বাড়িতে রান্না করে খাওয়ার চেয়েও অতিরিক্ত মাংস থাকতো। তখন সেই মাংস শুকিয়ে আচার করে রাখা হতো। সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে খাওয়া যেত। ওই সময় আমার এই বিষয়টি মাথায় আসে। তখন প্রাথমিকভাবে আধা কেজি মাংস দিয়ে আচার তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার করি। অনেকেই আমার কাছে অর্ডার দেয়। এভাবে অনলাইনে যারা কিনতেন তাদের মুখে মুখে এবং আমার ফেসবুক প্রচারণাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে আমার সফলতা দ্রুত আসে।

তিনি আরও বলেন, অর্ডারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় টাকা পয়সার প্রয়োজন হয়। ওই সময় আমি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেই। ওই ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। পরে আবারও ঋণ নিয়েছি। ওই টাকা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি।

মাংসের আচার তৈরিতে আপনার শাশুড়ির রেসিপিই ব্যবহার করেন নাকি নতুন কিছু সংযোজন বিয়োজন করেছেন জানতে চাইলে মাসুমা আক্তার ঢাকা টাইমসকে বলেন, রেসিপি তো পুরোটাই শাশুড়ির। গরুর মাংস, সরিষার তেল, রসুন, হলুদ, মরিচ, সরিষা, আর বিভিন্ন মশলার সমন্বয়ে টক ঝাল স্বাদের আচার তৈরি হয়। তবে আমি এর মধ্যে নতুন কিছু মসলা যোগ করেছি। যে কারণে টেস্ট আরও বেড়ে গেছে।