বেইলি রোডে নেই ইফতারের আমেজ

লিটন মাহমুদ, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৪, ১৬:৪৮ | প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০২৪, ২০:৪৪

প্রতি বছর রমজান এলেই নাটক সরণি হিসেবে পরিচিত রাজধানীর বেইলি রোড সেজে উঠতো বাহারি ইফতারসামগ্রীতে। শান্তিনগর মোড় থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের মোড়; রাস্তার দুই পাশেই পাওয়া যেত হরেক রকমের ইফতারি। আর ইফতারির এসব পদে থাকত ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের ছোঁয়াও। যেগুলো কিনতে মাসব্যাপী অভিজাত শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় লেগেই থাকত। তবে এ বছর অনেকটাই ভিন্ন বেইলি রোডের চিত্র।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে শান্তিনগর মোড় থেকে বেইলি রোডের শেষ মাথা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকটি ইফতারের দোকান দেখা যায়। আর দোকানগুলোতে মানুষের আনাগোনা একদমই কম।

চলতি রমজানে বেইলি রোডের এমন হতাশাজনক চিত্রের নেপথ্যে অবশ্য কারণও আছে। এই সড়কে একটি ভবনে গত ২৯ মার্চ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে নিভে গেছে ৪৬টি তাজা প্রাণ। এখনও অনেকে দগ্ধ হয়ে সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। আর ভবনটি ক্ষত নিয়ে সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া ঘটনার পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় রাজউক, পুলিশ সিটি করপোরেশনের অভিযানে এই এলাকার জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট নবাবী ভোজ, সুলতান ডাইন, ওয়েসিস, চিলক্সসহ একাধিক রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে এই এলাকার ফুটপাতের দোকানগুলোও।

এদিকে বেইলি রোডের ইফতারের দোকান কম থাকায় এ বছর ইফতারির দামও বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার প্রতিটি ইফতারি পদের দাম দ্বিগুণ। কারণে কিছু কিছু আইটেমের দাম অনেকটা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ফলে কিছু ক্রেতা এলেও দাম দেখে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেস্টেুরেন্ট মালিক বলেন, আমরা শেষ হয়ে গেছি। নানা অনিয়মে ধরে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কবে খুলবে তাও বলতে পারছি না। অন্যদিকে, যারা সাহস করে এবার ইফতারের দোকান খুলেছেন তাদেরও বিক্রি ভালো নেই। একটি ঘটনা গোটা এলাকার ব্যবসায় ভয়ানক প্রভাব ফেলেছে।

বেইলি পিঠাঘরে ইফতার কিনতে আসা জাহিদ বলেন, গত বছর ইফতার কিনতে এলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হতো। মানুষের ভেতর আতঙ্ক আছেই। এখানে আসার সময় আম্মু বারবার বলেছেন, দেরি না করে যেন তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যাই। আসার সময় পোড়া ভবনের দিকে চোখ যায়। ভয় তো লাগেই।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় মৃত্যু হয় নারী-শিশুসহ ৪৬ জনের। ঘটনার ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও শুক্রবার এই ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়া পথচারীদের থামতে দেখা যায়। অন্যদিকে পুড়ে যাওয়া ভবনটি এখনো পুলিশি পাহারায় রয়েছে।

আশপাশের বিল্ডিংগুলোর নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, গ্রিন কটেজে আগুন লাগার পর অভিযান চালানো হয় অন্যান্য রেস্তোরাঁয়। এ কারণে আগের মতো জৌলুশ নেই বেইলি রোডে। রাত বাড়লেই যেনভূতের গলিহয় বেইলি রোড। আর গ্রিন কটেজ হয়েছে পোড়াবাড়ি

(ঢাকাটাইমস/২২মার্চ/এলএম/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :