শিলাবৃষ্টি খাওয়া কী নিরাপদ, জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ মে ২০২৪, ১০:৪৭

বাংলাদেশে বৈশাখ মাসের আগে ও পরে শিলাবৃষ্টি দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরমের কারণে শিলাবৃষ্টি হয়। বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে আকাশ থেকে ছোট ছোট বরফখণ্ডও মাটিতে পড়ে। বৃষ্টির সঙ্গে বরফখণ্ড পড়ার কারণে এই বৃষ্টিকে শিলাবৃষ্টি বলে। আবহাওয়ার পাশাপাশি ভৌগলিক কারণও জড়িত। আবহাওয়ার ধর্ম হলো, উষ্ণ বায়ু উপরের দিকে উঠবে আর শীতল বায়ু নিচের দিকে নামবে। এর মধ্যে যদি শীতল পানির উৎস পাওয়া যায়, তখন মেঘে বরফ জমতে থাকে। একপর্যায়ে বেশি ভারী হয়ে গেলে বাতাস আর সেটি ধরে রাখতে পারে না। তখন বজ্রমেঘের সঙ্গে সেই বরফ নেমে আসে শিলাবৃষ্টি হয়ে। গড়ে একটা শিলার ব্যস হয় ৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এর মধ্যে।

ঝড়ো আর সংকটপূর্ণ আবহাওয়াতে যখন শক্তিশালী বায়ু প্রবাহ উপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন শিলা তৈরী হয়। যখন কনভেকটিভ শেল তৈরী হয়, তখন উষ্ণ বায়ু উপরের দিকে উঠতে থাকে, আর শীতল বায়ু নিচের দিকে নামতে থাকে।

যখন সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ খুব শীতল পানির উৎস পাওয়া যায়, তখন মেঘে বরফ জমতে থাকে ঐ শীতল পানির দানা আর শীতল বায়ুর সংমিশ্রণে। উর্ধ্বমুখী বায়ু এমন একটা অবস্থানে পৌঁছায় যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে চলে যায়, অর্থাৎ যেখানে পানি বরফ হতে শুরু করে।

এক পর্যায়ে ঊর্ধ্বমুখী বায়ুতে সৃষ্ট বরফ খণ্ডগুলো ঐ বায়ুর প্রবাহ থেকে ছুটে গিয়ে নিচের দিকে পড়তে থাকে। এই ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর উপরে উঠে যাওয়ার পরে বরফ কণা সৃষ্টি হয়ে নিম্নগামী হওয়ার প্রক্রিয়া পুনঃ পুনঃ চলতে থাকে এবং বরফ কণার উপর বার বার আস্তরণ জমা হয়ে তা বরফ খণ্ডের আকার নেয়।

এই ঊর্ধ্বমুখী বাতাসের কিন্তু বেশ ভালোই গতি থাকতে হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই গতি ৬০ মাইল/ঘন্টা ও হতে পারে। মজার ব্যাপার হল, আমরা যদি একটা শিলা খন্ড-কে অর্ধেক করে কেটে নিতে পারি, তাহলে এর ভেতর কার কেন্দ্রিভূত স্তরগুলো আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে উঠবে ।

যখন শিলা ঊর্ধ্বাকাশ থেকে পতিত হতে থাকে, তখন এটি পতনশীল অবস্থায় কিছুটা গলে যায়, আর এমন তাপমাত্রায় এটা গলে যার কারণে এটা আবার ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর সাথে উপরে উঠে যায়। সুতরাং এর থেকেই বোঝা যায় যে খুব বড় আকারের শিলাখন্ড আসলে অনেক বারের পুনঃ প্রক্রিয়ার ফসল।

এই শিলাখন্ড গুলো বৃষ্টির পানির কণা বা মেঘ কে আশ্রয় করে এবং যখন এগুলো ক্রমশ ভারি হয়ে উঠে এবং ঊর্ধ্বগামী বায়ু আর এতটা ভারি কণা বহন করতে পারে না, তখন শিলাখন্ড বৃষ্টির সাথে ভূমিতে পতিত হতে থাকে। যাকে আমরা শিলাবৃষ্টি হিসেবে দেখতে পাই।

গবেষকরা বলছেন, বৃষ্টির সঙ্গে পড়া এসব শিলা খাওয়া মোটেই নিরাপদ না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বৃষ্টির সঙ্গে পড়া শিলাতে নানা ধরনের দূষিত উপাদান থাকে; যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিলাতে নাইট্রেটসহ বেশকিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই উপদানগুলো পানিতেও থাকে, তবে শিলাতে এসবের উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি।

গবেষকদের মতে, যখন শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, তখন সেটাকে আইস নিউক্লিয়েশন বলা হয়। এই আইস নিউক্লিয়েশনে বাতাসের বিভিন্ন পলিউশন থাকে। এই পলিউশনের কিছু কিছু সাফসটেন্স আইস নিউক্লিয়া হিসেব কাজ করে। অর্থাৎ যে আইস গঠিত হয়, তার সিড হিসেবে কাজ করে। যখন পলিউশনটা সিড হিসেবে কাজ করে তখন আইসটা চারিদিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত ওয়াটার কনডেন্সড তৈরি করে। এই ওয়াটার কনডেন্সড শিলায় রুপান্তরিত হয়। শিলাটা যখন বাতাসে হালকা থাকে তখন ভেসে থাকে, যখন এটি ভারি হয় তখন ভুপৃষ্ঠে নেমে আসে। মানুষ যদি এটা খায় তাহলে এর মধ্যে থাকা পলিউশন শরীরে প্রবেশ করে। এজন্য শিলা খাওয়া উচিত না। যেকোনো পানীয় পানযোগ্য হওয়ার জন্য ৪০টি প্যারামিটার রয়েছে। শিলা এই ৪০টি প্যারামিটার ফুলফিল করে না। কারণ, এটার জন্মই হলো পলিউশন সিড থেকে। কোনোভাবেই শিলা খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে শিশুরা যেন শিলা না খায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৫ মে/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ফিচার এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :