বিদায় বেলায় কান্না আটকে রাখার চেষ্টা করছেন অ্যান্ডারসন

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:২১

বয়স শুধুই একটি সংখ্যা- খেলাধুলার জগতে এমন কথা শোনা যায় প্রায়ই। তবু কাউকে না কাউকে একদিন ক্যারিয়ারের ইতি তো টানতে হবে। বয়স ২১ পূর্ণ হওয়ার আগেই লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু। ২১ বছর পর একই মাঠে থামছে জেমস অ্যান্ডারসনের পথচলা। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে চোখের জল ধরে রাখাও হয়তো অত সহজ ব্যাপার নয়। সে যা-ই হোক, জেমস অ্যান্ডারসন এই কঠিন কাজটি করতে চান লর্ডসে।

৭০০ উইকেট–টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অর্জন নেই আর কোনো পেসারের। এ ছাড়া টেস্টে মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে সাতশ'র বেশি উইকেট শিকার করেছেন। ১৮৮টি টেস্ট খেলে এমন কীর্তি গড়া জেমস অ্যান্ডারসন এবার ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন। লর্ডসে আগামীকাল (বুধবার) শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলেই প্রায় ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় জানাবেন ৪১ বছর বয়সী এই পেসার।

বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামার আগে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, ‘আমি চেষ্টা করছি ম্যাচটা নিয়ে অত বেশি না ভাবতে বা আমি কেমন অনুভব করছি তা নিয়ে চিন্তা না করতে। চেষ্টা করছি যতটা বেশি মনোযোগী হওয়া যায়। এই সপ্তাহে আমার জন্য জরুরি বিষয় হচ্ছে ভালো খেলতে চাওয়া, ভালো বল করতে চাওয়া এবং জয় তুলে নেওয়া। আমি এসবের ওপরই মনযোগী হতে চাচ্ছি। আমি নিশ্চিত এই সপ্তাহের মধ্যে আমার আবেগীয় ভাবে পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে আমি চেষ্টা করছি কান্না আটকে রাখার।’

অ্যান্ডারসন আরও বলেন, ‘গত কয়েক মাস অদ্ভুত ছিল। এখন বিষয়গুলো যেরকম আছে তা নিয়ে আমি খুশি এবং এই সপ্তাহের জন্য মুখিয়েও রয়েছি। কিছু বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সংস্পর্শে আসা এই সপ্তাহে, ভালো ব্যাপার ছিল। অনেক মানুষের সাথে আমার রাস্তাঘাটে এবং বাহিরে দেখা হয়েছে যারা আমাকে বলেছে, তারা খেলা দেখতে আসছে। আমি এই সপ্তাহের জন্য মুখিয়ে আছি।’

কাউন্টিতে ল্যাঙ্কাশায়ের হয়ে খেলা দারুণ উপভোগ করেছেন অ্যান্ডারসন। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল কিছু পারফরম্যান্সের চেষ্টা করে (ক্যারিয়ার) শেষ করা। ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে খেলতে দারুণ লেগেছে। আমি সবসময় তাদের হয়ে খেলতে পছন্দ করেছি। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা থাকার কারণে গত ২০ বছরে তাদের হয়ে অত বেশি খেলতে পারিনি। তবে যখনই তাদের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছি আমি তা লুফে নিয়েছি এবং তাদের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছি। এটাই করেছি গত সপ্তাহে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবহাওয়ার কারণে জয়টা তুলে নিতে পারিনি।’

আগামী অ্যাশেজ দিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানা যেত কি না এমন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে অ্যান্ডারসনকে। যদিও অ্যাশেজ শুরু হতে এখনও অনেক সময় বাকি। জবাবে অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আসলে এরকম প্রশ্নের উত্তর করাটা সবসময় কঠিন। আপনি কখনওই জানেন না সামনে কী ঘটবে। এটি ১৮ মাস পরের ঘটনা। অনেক লম্বা সময়। আমি আমার ক্যারিয়ারে কখনওই খুব বেশি ভবিষ্যতের চিন্তা করিনি। আমি সবসময় ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা করেছি এবং সিরিজ ধরে ধরে এগোতে চেয়েছি। আমার ক্যারিয়ার এভাবেই এগিয়েছে।’

টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০০ ম্যাচ খেলে শচীন টেন্ডুলকার অবসরে গেছেন ২০১৩ সালে। শচীনের পরে টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮৭ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন অ্যান্ডারসন। ৪২ ছুঁই ছুঁই অ্যান্ডারসন ১৮৮ টেস্ট (লর্ডস টেস্টসহ) খেলতে পারা অনেক গর্বের মনে করছেন, ‘৪২ বছর পূর্ণ হতে আর কয়েক দিন বাকি। এই বয়সে ১৮৮তম টেস্ট খেলা আমার জন্য অনেক গর্বের বিষয়। এই বয়সে নিজের সেরাটা কীভাবে দেওয়া যায়, তার জন্য প্রাণপ্রণ চেষ্টা করছি। একটা মাত্র ম্যাচ বাকি থাকলেও অনুশীলনের সময় চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছি না।’

(ঢাকাটাইমস/০৯ জুলাই/এনবিডব্লিউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :