ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে সতর্ক করলো আরব আমিরাত

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২২
অ- অ+

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও আমিরাতিকরণ মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কোনো ব্যক্তি দেশে কর্মরত হতে পারবে না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমিট ছাড়া কোনো নিয়োগকর্তা কর্মীকে কাজে যুক্ত করতে পারবে না।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসারে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিয়োগকর্তা কোনো কর্মীকে নিয়োগ বা কাজে যুক্ত করতে পারবেন না।

মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, শ্রম আইনটি মূলত কর্মসংস্থানে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ, অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা শ্রমিকদের অবস্থান বিবেচনায় মোট ১২ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট দিচ্ছে আরব আমিরাত। এই পারমিটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমতি থেকে শুরু করে খণ্ডকালীন, অস্থায়ী প্রকল্পভিত্তিক কাজের জন্য নমনীয় ব্যবস্থাসমূহ।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পারমিটগুলোর একটি হলো বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ওয়ার্ক পারমিট। এর মাধ্যমে অনুমোদিত শর্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণ সাপেক্ষে সংস্থাগুলোকে বাইরে থেকে কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়।

এছাড়া ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থাও রয়েছে। যার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান দেশটির ভেতরে অবস্থানরত বিদেশি কর্মীকে তার পূর্ববর্তী চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়োগ দিতে পারে। এই ব্যবস্থাটি শ্রমিকদের চলাচল সহজ করার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক তদারকি বজায় রাখে।

আরেকটি পারমিট ক্যাটাগরি পরিবারিক স্পনসরশিপের আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। এই পারমিটের মাধ্যমে ডিপেনডেন্ট ভিসায় থাকা বাসিন্দারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন।

স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই পারমিটের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত কোনো কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করে পরে তার মূল নিয়োগকর্তার কাছে ফিরে যেতে পারেন। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি পারমিট হলো মিশন ওয়ার্ক পারমিট, যা নির্দিষ্ট কাজ বা সময়সীমাবদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদেশ থেকে আনা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য।

মন্ত্রণালয় খণ্ডকালীন ওয়ার্ক পারমিটের কথাও তুলে ধরেছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশিয় বা বিদেশি কর্মীদের কম সময়ের ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ দেয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকলে, এই পারমিটধারীরা একাধিক নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারেন, যার ফলে কর্মী ব্যবসাউভয়ই বাড়তি ছাড় পান।

কিশোর বয়সি কর্মীদের জন্যও বিশেষ বিধান রয়েছে। জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী তরুণদের নিয়োগ দেয়া যায়, তবে তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষাগত দায়িত্ব সুরক্ষার জন্য কঠোর শর্ত প্রযোজ্য।

একইভাবে প্রশিক্ষণ বা শিক্ষার্থী কর্মসংস্থান পারমিটের আওতায় ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময় শর্ত অনুযায়ী কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

আঞ্চলিক শ্রমবাজারে সংহতি জোরদারের লক্ষ্যে আরব আমিরাতের নাগরিক এবং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর নাগরিকদের জন্যও একটি বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা রয়েছে। আমিরাতের শ্রমবাজারে উপসাগরীয় প্রতিভাদের অংশগ্রহণ গতিশীলতা বাড়াতে এই পারমিট প্রণয়ন করা হয়েছে।

এছাড়া গোল্ডেন রেসিডেন্সি ভিসাধারীদের জন্যও একটি ওয়ার্ক পারমিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি এই আবাসন স্কিমের আওতায় আমিরাতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ দিতে পারে।

আরেকটি ক্যাটাগরি হলোসিটিজেন ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিট, যা নিয়োগকর্তাদের অনুমোদিত একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে আরব আমিরাতের নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন জাতীয়করণের উদ্যোগকে বেগবান করা হচ্ছে।

সবশেষে রয়েছে প্রাইভেট টিউটরিং ওয়ার্ক পারমিট, যার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী এককভাবে বা দলগতভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পাঠদান করতে পারেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান
বিমানবন্দর না, শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
৮০তে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা