নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কা করছেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৭
অ- অ+

ঢাকা–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ ভোটাধিকার অর্জন করেছে। এই অধিকার প্রয়োগে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট অডিটোরিয়ামে এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি কাটাবন, এলিফ্যান্ট রোড এবং পিজি হাসপাতালের আশপাশে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি গণসংযোগ করেন। রাতে তিনি নয়াপল্টনের গাজী ভবন ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করবেন এবং এর আশপাশে গণসংযোগ করবেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ডাক্তার হোক, নার্স হোক, রাজনীতিবিদ হোক, কুলি-মজুর যেই হোক ভোট দেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব সবার রয়েছে। দয়া করে ভোট দিতে যাবেন, এই অধিকারটা প্রয়োগ করবেন।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি লক্ষ্য করছি এবারও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পনা হতে পারে। তাঁর ভাষায়, আগে ভোট শেষে পোলিং এজেন্টরা সন্ধ্যার মধ্যেই ফলাফল নিয়ে ফিরত, আর এখন বলা হচ্ছে ফল পেতে দুই-তিন দিন লাগবে। এটিকে তিনি কারচুপির সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটা আমরা কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নেব না।

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা এখনো আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে। তারা চায় নির্বাচন না হোক, আর নির্বাচন হলে যেন বিএনপি জিততে না পারে।

তিনি আরও বলেন, একদল লোক আছে যারা দেশের বাইরে থাকে, কিন্তু নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে। আসলে দেশে ও বিদেশে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা কথা বলেন, দেশের জন্য যদি এতই প্রেম থাকে, তাহলে দেশে আসেন না কেন? দেশে এসে নির্বাচন করেন, জনগণের সঙ্গে কাজ করেন। অথচ তারা বিদেশে বসে বিএনপিকে কীভাবে ক্ষতি করা যায়, কীভাবে বদনাম ও অপবাদ দেওয়া যায় সেই চেষ্টা চালাচ্ছে।

আব্বাস বলেন, একদল ছেলে-পেলে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা সারাদিন মির্জা আব্বাস কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নামই বেশি নেয়। সারাদিন তাদের মুখে মিথ্যা কথার তুবড়ি ফুটতেই থাকে। আবার তারা বলে, তারা নাকি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছে। তাহলে কি ভবিষ্যতে আমরা আমাদের সন্তানদের আর মাদ্রাসায় পাঠাতে পারব না? মাদ্রাসায় গিয়ে কি মানুষ মিথ্যা বলা শেখে? মাদ্রাসায় মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা পায়, সত্য শিক্ষা পায়। সেখানে গীবত কী, মিথ্যা কী এসব শেখানো হয় এবং গীবত ও মিথ্যা বলা নিষেধ করা হয়। অথচ এরা মাদ্রাসায় পড়ে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা মিথ্যা কথাই বলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাবারা, নির্বাচন করেন, ভোট চান। কিন্তু ভোট চাইতে হলে বলুন, আপনি কী করেছেন এবং ভবিষ্যতে কী করবেন। আপনি কোথা থেকে এসেছেন, সেটা আমার দেখার বিষয় না। কথা হলো, আপনি নিজের কাজের কথা বলে মানুষের ভোট চান। অন্যের গীবত করে, অপবাদ দিয়ে সময় নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি অন্তত পাঁচবার নির্বাচন করেছি, আপনারা দেখেছেন। এখানে যারা পুরোনো লোক আছেন, আপনারা কি কখনো শুনেছেন যে আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলেছি? আমি সবসময় আমার কথাই বলেছি আমি কী করব, সেটাই বলেছি।

নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোট চাইতে হলে নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে হবে, অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে নয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি ঢাকায় দুটি হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল হাসপাতাল ও একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাশাপাশি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় চাকরির ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। লিফলেটে এসব কাজের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার আদায়ের জন্য তিনি যে সংগ্রাম করেছেন, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় সার্থকতা। মানুষ তাঁকে ভোট দিক বা না দিক, ভোট দিতে পারাটাই তাঁর শান্তি। তিনি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রমাণ চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কেউ একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগও প্রমাণ করতে পারবে না।

(ঢাকাটাইমস/২৯ জানুয়ারি/জেবি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে সংসদে নতুন কঠোর আইন পাস হয়েছে: শামা ওবায়েদ 
তুলা উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি আরও কঠোর, মানতে হবে ৭ নতুন শর্ত
প্রতি ইউনিয়নে খেলার মাঠ, ১০ জেলায় হবে স্পোর্টস ভিলেজ: আমিনুল হক
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা