সাতক্ষীরায় দ্বিগুণ মুনাফার ফাঁদে ফেলে ভিক্ষুকের সঞ্চয় আত্মসাৎ করল ‘রুপা’

সাতক্ষীরায় ‘রুপা’ নামের একটি কথিত এনজিওর বিরুদ্ধে দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় বৃদ্ধার সারাজীবনের সঞ্চয় আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ছখিনা খাতুন (৭০) এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ছখিনা খাতুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধুমাল্লারডাঙ্গী এলাকার মৃত সুলতান মিস্ত্রির স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি ও মানুষের বাড়িতে কাজ করে তিলে তিলে ৬০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছিলেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা এলাকার মনিরুল ইসলাম (৬০) পরিচালিত ‘রুপা’ সমিতিতে ৬ বছরে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার আশ্বাসে ওই অর্থ জমা রাখেন বৃদ্ধা। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও গত তিন বছর ধরে আসল টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত পাননি ছকিনা খাতুন। উল্টো গত দুই বছর ধরে সমিতির স্থানীয় অফিস বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম পলাতক বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধা জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পাওনা টাকার দাবিতে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় এনজিও কর্মী সোমা খাতুনের বাড়িতে যান তিনি। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন সোমা। এমনকি টাকা চাইলে ‘খুন করে লাশ গুম’ করার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বৃদ্ধা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছকিনা খাতুন বলেন, ‘শেষ বয়সে একটু ভরসার জন্য টাকা জমিয়েছিলাম। এখন তারা টাকা দিচ্ছে না, উল্টো ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ছকিনা খাতুন নন, জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েক শ গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে ‘রুপা’ এনজিও। এক লাখ টাকায় মাসে তিন হাজার টাকা মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ২০০৮-০৯ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কালীগঞ্জের ফতেপুর, বিষ্ণুপুর ও নলতা শাখা অফিসে তালা ঝুলছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রাহকদের টাকা দিয়ে মনিরুল ইসলাম নলতায় জমি কিনেছেন এবং সেই জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পদ গড়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন জানান, রূপার কর্মী সোমা খাতুনের কথায় বিশ্বাস করে টাকা জমা দিয়ে তিনিও সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় স্বীকার করে বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে। ফান্ড পেলেই গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা হবে।’ তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে ‘আর কিছু না করার’ অনুরোধও জানান।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর ইসলাম জানান, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা ভারপ্রাপ্ত সমবায় কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রূপা’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ব্যাংকিং বা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
(ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































