ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থানে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যা বইয়ে দিয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে টমাস টুখেলের দল বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটি ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। মাত্র ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইসের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যায় ইংলিশরা। ১৮ মিনিটে রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা।
প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর গোল করেন বুকায়ো সাকা। এরপর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কনসার পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন আর্সেনালের এই তারকা। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করে ফ্রান্স।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফরাসিরা। ৫২ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুই মিনিট পর এমবাপ্পের পাস থেকে বারকোলা গোল করলে ম্যাচে ফেরে ফ্রান্স। ৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোরলাইন ৪-৩ এ নিয়ে আসেন এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন ফরাসি অধিনায়ক। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেন, যা তাকে লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে চলতি আসরে ১০ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে যান তিনি।
ম্যাচের শেষদিকে আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ইংল্যান্ড। ৮৪ মিনিটে জেড স্পেনসকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় তারা। জুড বেলিংহাম নিজে শট না নিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দেন বুকায়ো সাকাকে। ৮৭ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলে গোল করে ফ্রান্সকে আবারও আশা দেখান। তবে শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহামের গোলে ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন বুকায়ো সাকা। এছাড়া একটি করে গোল করেন জুড বেলিংহাম, এজরি কনসা ও ডেক্লান রাইস। ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর একটি করে গোল করেন বারকোলা ও উসমান দেম্বেলে।
টুর্নামেন্টের তুলনামূলক কম গুরুত্বের ম্যাচ হলেও শেষ পর্যন্ত সেটিই রূপ নেয় বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় লড়াইয়ে। ১০ গোলের এই মহারণে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইংল্যান্ড।
(ঢাকাটাইমস/১৯ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































