রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে রোজা, শরীর সতেজ রাখতে যেসব খাবার খাবেন

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫১
অ- অ+

পবিত্র মাহে রমযান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখা মুসলমানদের ওপর ফরজ ইবাদত। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬০ কোটির বেশি মুসলমান রোজার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের অনুশীলন করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে রোজা শুধু ইবাদতই নয়, বরং এটি মানুষের আত্মিক ও শারীরিক উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

হাদিসে রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখলে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। রোজাদারদের জন্য জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামে একটি বিশেষ দরজার কথাও বর্ণিত হয়েছে, যেখানে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করতে পারবেন।

রোজার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি আধুনিক গবেষণাও রোজার নানা শারীরিক উপকারিতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। গবেষকদের মতে, রোজা মানবদেহে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া রোজা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়মিত রোজা রাখলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। একই সঙ্গে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমে গিয়ে শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত হয় এবং মানসিক চাপও কমে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রোজা উপকারী হতে পারে। তবে যারা একাধিকবার ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখা উচিত। একইভাবে আলসার বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিভেদে রোজার প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

ধূমপান বর্জনে রমজানের সুযোগ

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর—এ কথা এখন সবার জানা। রমজান মাস ধূমপান ছাড়ার জন্য একটি কার্যকর সময় হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে ধূমপানের অভ্যাস কমাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।

ডিটক্সিফিকেশনে সহায়ক রোজা

স্বাস্থ্য গবেষকদের মতে, সারা বছর অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে নানা ধরনের জৈব বিষ জমে। সঠিকভাবে রোজা পালন করলে শরীর এসব ক্ষতিকর উপাদান থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত হয় এবং শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে।

রোজায় সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খাবেন

রোজায় দীর্ঘ সময় পানাহার বন্ধ থাকায় শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকে। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি—প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহার করে ফলমূল, শাকসবজি, প্রোটিন ও শ্বেতসারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। ইফতারে খেজুর, ফলের রস ও হালকা খাবার শরীরের শক্তি দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

সেহরিতে ধীরে হজম হয় এমন আঁশযুক্ত খাবার—যেমন ভাত, গমের রুটি, বার্লি, পাস্তা—খেলে দীর্ঘ সময় শক্তি পাওয়া যায়। ইফতারের পর মূল খাবারে ভাত বা রুটি, মাছ-মাংস, ডাল, শাকসবজি ও পরিমিত চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

জীবনযাপনে কিছু জরুরি অভ্যাস

রোজার সময় শরীর সুস্থ রাখতে হালকা ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত কাজের মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পরিকল্পিত জীবনযাপন মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ম মেনে রোজা পালন ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে রমজান মাসে মানুষ শারীরিকভাবে কর্মক্ষম ও মানসিকভাবে সতেজ থাকতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২৩ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে: টুকু
রাজশাহীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি 
যশোরে ২ সন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা
আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানকে অব্যাহতি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা