বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের সহজ শব্দাবলী (২০২৬-২৭ অর্থবছর)

জাতীয় বাজেট কী?
জাতীয় বাজেটকে ঠিক আপনার সংসারের মাসিক বাজেটের মতো ভাবতে পারেন, তবে তা পুরো দেশের জন্য। আপনি যেমন মাসজুড়ে আপনার পকেটমানি বা বেতন কীভাবে খরচ করবেন তার একটি পরিকল্পনা করেন, সরকারও ঠিক তেমনিভাবে গোটা দেশের জন্য একটি বার্ষিক আর্থিক পরিকল্পনা তৈরি করে। এই পরিকল্পনায় দেখানো হয় যে সরকার আগামী বছর (যাকে অর্থবছর বলে) কত টাকা পাবে এবং কীভাবে সেটি খরচ করবে। বাজেট শুধু একটা কাগজের ফাইল নয়—এটি সরকারের প্রধান হাতিয়ার, যা দিয়ে তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, দেশ চালায় এবং জাতীয় উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়।
বাজেটের তিনটি প্রধান অংশ
১. রাজস্ব (আয়) এটি হলো সরকারের সংগ্রহ করা সমস্ত অর্থ। সবচেয়ে বড় উৎস হলো কর, যেমন আয়কর (যা চাকরিজীবীরা দেয়) এবং ভ্যাট (যা পণ্য ও সেবার সাথে যুক্ত হয়)। করকে সরকারের বেতন হিসেবে ভাবতে পারেন—এটাই সরকারের প্রায় সব খরচ চালায়। সরকার অ-কর উৎস থেকেও অর্থ পায়, যেমন পাসপোর্টের ফি, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মুনাফা এবং অন্যান্য চার্জ।
২. ব্যয় (অর্থ প্রদান) এটি হলো সরকার কীভাবে তার অর্থ খরচ করে। এর দুটি প্রধান ভাগ রয়েছে:
- পরিচালন ব্যয়: দেশ চালানোর দৈনন্দিন খরচ, যেমন শিক্ষক, ডাক্তার ও পুলিশের বেতন দেওয়া, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন দেওয়া এবং স্কুল-হাসপাতাল রক্ষণাবেক্ষণ করা।
- উন্নয়ন ব্যয়: বড়, দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে ব্যয় করা অর্থ যা ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে, যেমন নতুন সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলপথ নির্মাণ। এগুলো আজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং আগামীকাল দেশকে আরও শক্তিশালী করে।
৩. ঘাটতি বা উদ্বৃত্ত যদি সরকার তার আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করার পরিকল্পনা করে, তাহলে সেটি ঘাটতি তৈরি করে। তখন তাকে দেশের ব্যাংক বা বিদেশি দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়—ঠিক যেমন আপনার খরচ আয়ের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে আপনাকে ঋণ নিতে হয়। অন্যদিকে, যদি আয় ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেটি উদ্বৃত্ত তৈরি করে, যা পুরনো ঋণ শোধ করতে বা ভবিষ্যতের জরুরি অবস্থার জন্য সঞ্চয় করে রাখা যায়।
সরকার কেন বাজেট তৈরি করে?
- গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ বরাদ্দ করতে: বাজেট স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তার মতো প্রয়োজনীয় জনসেবায় অর্থ পাঠায়, যা বেসরকারি খাত সবসময় ঠিকভাবে দিতে পারে না।
- বৈষম্য কমাতে: ধনীদের বেশি কর দিয়ে এবং সেই অর্থ খাদ্য সহায়তা, বৃত্তি ও গরিবদের আবাসনে ব্যবহার করে বাজেট ধনী-গরিবের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে।
- অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে: অর্থনীতি মন্দার সময় সরকার বেশি খরচ করে বা কর কমায় যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির সময় সরকার খরচ কমায় বা কর বাড়ায় যাতে বাজার ঠান্ডা হয়। এটি মানুষকে চরম ওঠানামা থেকে রক্ষা করে।
বাজেট চক্র (ধাপে ধাপে)
১. পরিকল্পনা (প্রণয়ন): বাজেট ঘোষণার কয়েক মাস আগে সব মন্ত্রণালয় তাদের চাহিদা যাচাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠায়। তারা আরও অর্থের দাবি করে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সবকিছু একত্রিত করে চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করে। ২. অনুমোদন: খসড়া বাজেট সংসদে যায়, যেখানে নির্বাচিত সদস্যরা তা নিয়ে বিতর্ক করেন, প্রশ্ন করেন এবং পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। পূর্ণ আলোচনার পর তারা বাজেট অনুমোদনের জন্য ভোট দেন। ৩. বাস্তবায়ন: অনুমোদনের পর সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী কর সংগ্রহ ও অর্থ খরচ শুরু করে। অর্থ মন্ত্রণালয় সারাবছর অগ্রগতির উপর নজর রাখে। ৪. নিরীক্ষা: অর্থবছর শেষ হলে স্বাধীন নিরীক্ষকরা যাচাই করেন যে অর্থ ঠিকভাবে খরচ হয়েছে কিনা। তারা অপচয় বা অপব্যবহার খুঁজে বের করেন। এই পদক্ষেপ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং জনগণের আস্থা তৈরি করে।
এক নজরে বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট
২০২৬ সালের ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। এটি নির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলো হলো:
|
বিষয় |
বিবরণ |
|
মোট বাজেটের আকার |
৯.৩৮ লাখ কোটি টাকা (গত বছরের চেয়ে ১৯% বড়) |
|
ঘাটতি |
২.৪৩ লাখ কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬%) |
|
জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য |
৬.৫% |
|
মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্য |
৭.৫%-এ নামিয়ে আনা |
এই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার দেশীয় ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে ঋণ নেবে।
সাধারণ নাগরিকরা এই বাজেট থেকে কী পাচ্ছে
- কর ছাড়: করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৭৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। সরকার আগামী বছরগুলোতে এটি আরও বাড়িয়ে ৪,০০,০০০ টাকা করার পরিকল্পনা করেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা উপকৃত হবেন।
- সস্তায় দৈনন্দিন খাবার: চাল, গম, আলু ও পেঁয়াজের উপর কর ৫% থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫% করা হয়েছে। এটি প্রতিটি পরিবারের জন্য খাবারের দাম কমাবে।
- সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা: বাজেটে হার্ট স্টেন্ট, ডায়ালাইসিস ফিল্টার ও ছানি অপারেশনের লেন্সের উপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, চিকিৎসার জন্য ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থের উপর করমুক্ত সীমাও বাড়ানো হয়েছে, যা জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাকে সস্তা করবে।
- পরিবহন সুবিধা: ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকরা বিনামূল্যে ট্রেন ভ্রমণ করতে পারবেন। মেট্রোরেলের ভাড়ায় এখন ৫০% ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।
- পরিবেশবান্ধব যানবাহন নীতি: পেট্রল ও ডিজেলের গাড়ির উপর কর বাড়ানো হয়েছে দূষণ কমানোর জন্য। একই সাথে, বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) উপর কর কমানো হয়েছে পরিবেশবান্ধব বিকল্পকে উৎসাহিত করতে।
বাজেট কোথায় সবচেয়ে বেশি খরচ করছে?
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি): সড়ক, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মতো বড় অবকাঠামোর জন্য ৩ লাখ কোটি টাকা (জিডিপির ৪.৪%) বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
- সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও চরম দরিদ্রদের জন্য ১.৪৪ লাখ কোটি টাকা (গত বছরের চেয়ে ১৩.৯% বেশি) বরাদ্দ করা হয়েছে।
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি: সরকার ১ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুবক, উদ্যোক্তা ও দক্ষতা উন্নয়নে।
- কর্পোরেট কর: বিনিয়োগের স্থিতিশীল পরিবেশ দিতে ব্যবসায়িক করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো
ভালো পরিকল্পনা থাকলেও, বাংলাদেশ এখনও বেশ কয়েকটি কঠিন সমস্যার সম্মুখীন:
- উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি: ক্রমবর্ধমান দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলছে।
- ধীর প্রবৃদ্ধি: অর্থনীতি আগের মতো দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে না।
- দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ: ব্যবসায়ীরা প্রসারে দ্বিধাগ্রস্ত, যা নতুন চাকরি সীমিত করছে।
- দুর্বল কর আদায়: সরকার বারবার তার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
- ব্যাংকিং জটিলতা: অনেক ব্যাংকে প্রচুর খেলাপি ঋণ ও নগদ সংকট রয়েছে।
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: জ্বালানির অভাবে কারখানা ও দৈনন্দিন কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ: একটি সহজ চিত্র
খেলাপি ঋণ কী? খেলাপি ঋণ হলো সেই টাকা, যা ধার নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
|
বিষয় |
পরিমাণ (টাকায়) |
|
শীর্ষ ১১ থেকে ১২০টি খেলাপি ব্যবসায়িক গ্রুপ |
১০ হাজার কোটি টাকার বেশি (মোট প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা) |
|
সংসদ সদস্যদের (এমপি) সাথে যুক্ত খেলাপি ঋণ |
১১,১১৭ কোটি টাকা |
|
সব ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ |
৫.৮৮ লাখ কোটি টাকা |
এই সংখ্যাগুলোর সহজ অর্থ
১. বড় খেলাপি বনাম এমপিরা:
- বড় ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর বকেয়া রয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
- সংসদ সদস্য ও তাদের ব্যবসাগুলোর বকেয়া রয়েছে ১১,১১৭ কোটি টাকা।
- এই দুটি পরিমাণ প্রায় সমান।
২. পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা:
- সব ব্যাংক মিলিয়ে মোট খেলাপি ঋণ ৫.৮৮ লাখ কোটি টাকা।
- এটি বড় খেলাপি বা এমপিদের বকেয়ার চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
জাতীয় বাজেটের সাথে তুলনা (অর্থবছর ২০২৬-২৭)
এই ঋণের পরিমাণ বাজেটের সাথে কেমন তুলনীয়, তা দেখা যাক:
- রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা: ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা।
- মোট খেলাপি ঋণ (৫.৮৮ লাখ কোটি টাকা):
- এটি মোট বাজেটের (৯.৩৮ লাখ কোটি টাকা) প্রায় ৬৩%।
- এটি সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার (৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা) প্রায় ৮৫%।
বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ একটি বিশাল সমস্যা। মোট খেলাপি ঋণ (৫.৮৮ লাখ কোটি টাকা) প্রায় পুরো জাতীয় বাজেটের কাছাকাছি। এমনকি বড় ব্যবসায়ী ও এমপিদের ঋণ (১১,১১৭ কোটি টাকার বেশি) উল্লেখযোগ্য হলেও, এটি মূল সংকটের একটি ছোট অংশ মাত্র। যদি এই ঋণগুলো সঠিকভাবে আদায় করা যেত, তাহলে সরকার দেশের ব্যাংক বা অন্য কোথাও থেকে আর বেশি ঋণ না করেই অনেক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে নিজস্ব অর্থায়ন করতে পারত।
বড় চিত্র: জিডিপি এবং ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি বড় মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখন প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এটি বাংলাদেশকে "অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার" অর্থনীতির ক্লাবে স্থান দিয়েছে।
সহজ ভাষায় জিডিপি কী? জিডিপি হলো এক বছরের মধ্যে দেশের ভেতরে উৎপাদিত সমস্ত পণ্য ও প্রদত্ত সমস্ত সেবার মোট মূল্য। এটাকে একটি বড় রিপোর্ট কার্ড হিসেবে ভাবতে পারেন যা দেখায় অর্থনীটি আসলে কত বড় ও কতটা স্বাস্থ্যকর।
এই ৫০১ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি বাজেটের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- বড় অর্থনীতি মানে সরকারের জন্য বেশি করের টাকা, যা দিয়ে তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে।
- বাজেট ঘাটতি (৩.৬%) এবং প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য (৬.৫%) উভয়ই এই জিডিপি আকারের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।
- এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো সড়ক, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে খরচ করে জিডিপি আরও বড় করা।
মোট অর্থনীতির আকার: ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
১. সেবা খাত (Services)
- অবদান: প্রায় ৫১% (প্রায় ২৫৫.৫ বিলিয়ন ডলার)
- কী আছে: ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, ব্যাংকিং, রিয়েল এস্টেট ও সরকারি সেবা।
- বৈশিষ্ট্য: এটাই দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক খাত।
২. শিল্প খাত (Industry)
- অবদান: প্রায় ৩৭% (প্রায় ১৮৫.৪ বিলিয়ন ডলার)
- কী আছে: তৈরি পোশাক (আরএমজি), নির্মাণ, খনি ও বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি সরবরাহ।
- বৈশিষ্ট্য: বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস এই খাত।
৩. কৃষি খাত (Agriculture)
- অবদান: প্রায় ১২% (প্রায় ৬০.১ বিলিয়ন ডলার)
- কী আছে: ফসল, পশুপালন, বনায়ন ও মৎস্য খাত।
- বৈশিষ্ট্য: জিডিপিতে অংশ কম হলেও সবচেয়ে বেশি মানুষ এখানে কাজ করে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি এই খাত।
সেবা খাত অর্থনীতির চালিকাশক্তি, শিল্প খাত কর্মসংস্থান ও রপ্তানির হাতিয়ার, আর কৃষি খাত দেশের খাদ্যের ভিত্তি—তিন খাত মিলেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের ৫০১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি।
শেষ কথা
এই বাজেটটি বড় এবং ভালো উদ্দেশ্যপূর্ণ, কিন্তু একটি বাজেট ততটুকুই ভালো যতটুকু তার বাস্তবায়ন। সৎ শাসন, সঠিক তত্ত্বাবধান এবং শক্তিশালী সংস্কার ছাড়া সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাও ব্যর্থ হতে পারে। আগামী বছর পরীক্ষা করবে যে বাংলাদেশ এই আর্থিক রোডম্যাপকে তার জনগণের জন্য প্রকৃত অগ্রগতিতে রূপান্তর করতে পারে কিনা। সাফল্য নির্ভর করে সরকার, ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মধ্যে সহযোগিতার উপর—এবং একটি শক্তিশালী, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ এখন হাতের নাগালে।
লেখক: অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































