ইফতারে গ্যাস্ট্রিক দূর করে যেসব খাবার

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৪
অ- অ+

পবিত্র মাহে রমজান সিয়াম সাধনার মাস। ধৈর্য, শান্তি, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান। এই মাসে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রেখে ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তবে সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর সুস্থ রাখা এবং পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই খাদ্যাভ্যাসে সংযম, নিয়মিত জীবনযাপন এবং সুস্থতার প্রতি যত্নবান হওয়া এ মাসের শিক্ষারই অংশ। স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রেখে রোজা পালন করলে যেমন আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে, তেমনি শরীরও থাকে সুস্থ ও সতেজ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজার সময় খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চললে শরীর ভালো রাখা সম্ভব। সেহরি ও ইফতারে সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত হালকা শারীরিক ব্যায়াম শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক। তবে সারাদিন রোজা রাখার পর অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খেলে তা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের খাবার বাছাইয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে যা ইফতারে খেলে গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি কমে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। জেনে নিন ইফতারে যেসব খাবার খেলে দূরে থাকে গ্যাস্ট্রিক।

পানি

রোজার সময় পানিশূন্যতা গ্যাস্ট্রিকের অন্যতম কারণ। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং হজমে সহায়তা করে, ফলে অ্যাসিডিটি কমে।

কলা

কলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। যা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের বিরুদ্ধে এটি প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। প্রতিদিন একটি করে কলা খেলেই আপনার গ্যাস-অম্বলের সম্ভাবনা কমবে।

টক দই

টক দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমা হওয়া প্রতিরোধ করে। এর সঙ্গে গোলমরিচ যোগ করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে। টক দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়াকেও শক্তিশালী করে।

লবঙ্গ

লবঙ্গ পাকস্থলীর গ্যাস উৎপাদন প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে উপকার।

ডাবের পানি

ডাবের পানি পাকস্থলীতে শ্লেষ্মা উৎপাদনে সহায়ক। যা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত গ্যাস জমতে দেয় না। ফলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দূর হয়।

আনারস

ইফতারে আনারস বা আনারসের শরবত গ্যাস্ট্রিক কমাতে কার্যকর। এতে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম হজমে সহায়তা করে এবং অম্বল কমায়।

আদা

ইফতারের ছোলা বা অন্যান্য খাবারে সামান্য আদা কুচি ব্যবহার করলে তা হজম শক্তি বাড়ায়। আদা প্রাকৃতিকভাবে গ্যাস ও অম্বল কমাতে সাহায্য করে।

আদা চা

ইফতারের পর এক কাপ আদা চা হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করে। যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য আদা চা বিশেষ উপকারী।

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস। অম্বল ও বদহজম এড়াতে পুদিনা পাতার রস বা পাতা চিবিয়ে খান। খাওয়ার পর এক কাপ পুদিনাপাতার চা খাওয়ার অভ্যেস করতে পারলে পেটের সমস্যা নিমেষে কমে যেতে পারে। খুব সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এই চা। ৬-৭টি টাটকা পুদিনাপাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে নিন।

বাদাম

প্রতিদিন অল্প পরিমাণ বাদাম খেলে গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি কমে। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাকস্থলীর এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

লেবু

সেহরির পর হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে অ্যাসিডিটি কমে এবং শরীর সতেজ থাকে।

দারুচিনি

দারুচিনিতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান, যা গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে। চা বা কফিতে সামান্য দারুচিনি গুঁড়া ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানে গ্যাস্ট্রিক থেকে দূরে থাকতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মশলাদার ও তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া, একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতার মাধ্যমে পবিত্র এই মাসে সুস্থ থেকে ইবাদত করা সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

(ঢাকাটাইমস/২৫ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল: শিক্ষামন্ত্রী
জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী
শূন্যরেখায় আটকা মানুষ: রাষ্ট্রসীমানা ও মানবতার টানাপোড়েন!
মিরপুর ডিওএইচএসে বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডারের স্ত্রী হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা