আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বন্ধ পরিকর: আইনমন্ত্রী

আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বন্ধ পরিকর। এই সরকার আইনসঙ্গতভাবে ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও জেলায় কর্মরত সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী সরকারি কোন দপ্তরের কর্মকর্তা দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি যে বরাদ্দ হবে সেই বরাদ্দ জনগণের জন্য বরাদ্দ হয়। প্রত্যেকটা পাই পয়সা খরচ হচ্ছে সঠিক জায়গাই এটা নিশ্চিত করতে হবে। যদি দুর্নীতির আশ্রয় কেউ নেয় শুধু তার চাকরি যাবে, ডিপাটমেন্টে প্রসেডিং হবে এটা হবে না সাথে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও হবে।
তিনি বলেন, মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাস রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, সামাজিক হানাহানি মারামরি, সমস্ত কিছু নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। গুটি কয়েক মিসক্রিয়েন্টের কারনে সরকারের সব ভালো কাজের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না। সরকার আইনসঙ্গতভাবে ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে বদ্ধ পরিকর।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রক্তের সিডি দিয়ে ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটানো হয়েছে। আমরা এক সপ্তাহ কেবল ক্ষমতায় বসেছি। সমস্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় মহাসড়কে উঠেছে। সুতারাং আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এই সরকার বন্ধ পরিকর এবং সেই পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে ১৩৩ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আমরা অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রত্যেকটা অধ্যাদেশই বিল আকারে পেশ করব।
তিনি আরো বলেন, চাঞ্চল্যকর নরসিংদীর ধর্ষণ মামলায় যারা জড়িত তাদের যদি কেউ আশ্রয় দেয় তাদের শেকড় ধরে উপড়ে ফেলা হবে। মাগুরার চাঞ্চল্যকর আছিয়া হত্যা কান্ডের সময় আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেসময় দ্রুত আছিয়া হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। নরসিংদী ও ঝিনাইদহের শিশু তাবাসসুম হত্যা মামলাও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
সড়ক ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের কোয়ালিটির ব্যাপারে এখন থেকে আর কোনো কম্প্রমাইজ করা হবে না। কোনো ঠিকাদার যদি সড়ক ও সরকারি বরাদ্দের অবকাঠামো নির্মাণ কাজে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কমিশন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের নির্মূলে সরকার ও বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, যদি আজকের পর থেকে ঝিনাইদহে যারা চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য, হুমকি-ধামকি, রাজনৈতিক দলাদলি করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভুত্থানের শহিদ ও আহতদের অমর্যাদা এই সরকার মেনে নেবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে যে বা যারা যতটুকু অপরাধ করেছে, তাকে সেই অপরাধের জন্য শাস্তি পেতে হবে।
মতমিনিময় সভায় ঝিনাইদহ-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আবু তালিব, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন, মেহেদী হাসান রনি, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল প্রমুখ।
এরপর মন্ত্রী দিনভর শৈলকুপায় ব্যস্ত সময় পার করেন। সেখানে তিনি শৈলকুপা উপজেলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক জনসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এরপর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বিকেলে তিনি বাগ্মি সপ্তম পল্লীর রাধা গোবিন্দ প্রাঙ্গণে এক মতবিনিময় সভা করেন। এরপর তিনি শৈলকুপা বিএনপি অফিসে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।(ঢাকা টাইমস/২৮ফেব্রুয়ারি/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































