গাজার বাসিন্দারা চায় ফাইনালে শেষ হাসি স্পেনই হাসুক

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মহারণ ঘিরে যখন কাঁপছে গোটা বিশ্ব, তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাতেও দেখা যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব ফুটবল উন্মাদনা। তবে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতো নয় গাজাবাসীর এই উন্মাদনার পেছনে রয়েছে অন্য এক আবেগ। ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাওয়া স্প্যানিশ দলের প্রতি নিজেদের অকুণ্ঠ সমর্থন উজাড় করে দিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। আর এই সমর্থনের মূল কারণ খেলার মাঠ ছাড়িয়ে স্পেনের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান। ইসরায়েলি হামলার ভয়াবহতার মুখে স্পেনের সরকার ও দেশটির ক্রীড়াবিদদের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান গাজার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ আগ্রাসনে গাজার জনজীবন বিপর্যস্ত। জ্বালানি সংকট আর নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যেখানে একটি ম্যাচ দেখার সুযোগ মেলা ভার, সেখানেও ফুটবলকে আঁকড়ে ধরে ক্ষণিকের জন্য দুঃখ ভুলে থাকতে চাইছেন স্থানীয় মানুষ। গাজা সিটির একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব ‘প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাব’-এ সম্প্রতি মূল ফাইনালের আদলে ফিলিস্তিন ও স্পেনের মধ্যে প্রতীকী প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। সম্পূর্ণ পেশাদার আবহ ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আয়োজিত এই ম্যাচগুলো ছিল স্পেনের প্রতি গাজাবাসীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনন্য মাধ্যম।
ফিলিস্তিনিদের স্পেনের প্রতি এই ভালোবাসার কারণ গত মে মাসে স্প্যানিশ সরকারের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দান। এছাড়া বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার মতো ক্রীড়াব্যক্তিত্বদের ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ তাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। গাজার পুরুষাঙ্গহীন ফুটবল দল ‘গাজা আল-ইরাদা’-এর প্রধান কোচ হাতেম আল-মাগরিবি জানান, যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও যারা তাদের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, এই সমর্থন তাদের প্রতি এক প্রকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।
অবশ্য স্পেনের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রতি কোনো শত্রুতা নেই গাজাবাসীর। আর্জেন্টিনার বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইসরাইলপন্থী অবস্থান নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মনে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও ফুটবলীয় শক্তির বিচারে লিওনেল মেসির দলকে সমীহ করছেন তারা। স্থানীয় ফুটবল ভক্তরা মনে করেন, আর্জেন্টিনা অত্যন্ত শক্তিশালী দল হলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনেরই জয় হবে। সব মিলিয়ে ধ্বংসস্তূপ আর চরম মানবিক সংকটের মাঝেও গাজার বাতাসে এখন একটাই প্রার্থনা, বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা যেন শেষ পর্যন্ত স্পেনের হাতেই ওঠে। সূত্র: আল জাজিরা
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন









































