মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্র: ইরানে নিহত ২০১, আহত ৭৪৭

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ তাঁর মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের প্রধান ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীও নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ভয়াবহ সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। বহুমুখী হামলা-পাল্টা হামলায় অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরানে চালানো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে এবং আহত হয়েছেন ৭৪৭ জন। ৩২টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৪টিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্র হামলাকে সামরিক স্থাপনাকেন্দ্রিক বলে দাবি করলেও ইরানের বেসামরিক এলাকায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ৮৫ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার দাবি করেছে দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম। এছাড়া লামের্দ শহরের একটি জিমনেসিয়ামে হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি এই নৌপথ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন ও ইসরায়েলি অভিযানের বিস্তার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো রয়েছে। ইসরায়েল তাদের অভিযানের নাম দিয়েছে ‘রোয়ারিং লায়ন’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নাম ‘দ্য এপিক ফিউরি’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান’ শুরু করেছে এবং হামলা অব্যাহত থাকবে।
ইরানের পাল্টা হামলা
ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। কাতারের আল-উদেইদ, কুয়েতের আল-সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে তেহরান।
ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং বিমানবাহিনী প্রতিরোধে কাজ করছে।
উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যু
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর হামলায় নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
চীন, রাশিয়া ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বানও জানানো হয়েছে।
উত্তেজনার শঙ্কা
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, আর তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি আহত, ফ্লাইট স্থগিত
কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় একজন বাংলাদেশি প্রবাসী আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে একাধিক এয়ারলাইনস। ঢাকা থেকেও আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
(ঢাকাটাইমস/১ মার্চ/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































