বনানীতে অবৈধ সিসা বারে পুলিশের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:১০| আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:১৫
অ- অ+

রাজধানীর বনানীর ১১ নম্বর রোডে অবস্থিত প্লাব-বি ভবনের নয় তলায় ‘এক্সোটিক’ নামের একটি সিসা বারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সোমবার রাতে এ অভিযান পরিচালনা করে বনানী থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর। বলেন, অভিযানের ঘটনা সত্য। অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জানা যায়, সিসা লাউঞ্জের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে অভিযানটি পরিচালনা হয়।

সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ঢাকার একাধিক সিসা বার বন্ধ হলেও বনানী এলাকায় সেলসিয়াস, সিলভার লাউঞ্জ, ইউনিক রিজেন্সীসহ বেশকিছু অননুমোদিত সিসা সেবন চলমান রয়েছে। তবে এগুলোতে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন নেই। সেগুলোতে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের মাঝে সিসাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পরিবেশন করা হয়।

গত ৩ মার্চ গুলশান-বনানীর অনুমোদনবিহীন মাদক সিসা ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেলেন হাইকোর্ট। ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু। আদেশের বিষয়টি তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশান-বনানীর অনুমোদনবিহীন মাদক সিসা ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ রিট করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

তারও আগে ৮ জানুয়ারি রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অনুমোদনবিহীন মাদক সিসা ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এস এম জুলফিকার আলী জুনু সরকার সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় রাত গভীর হলে জমে ওঠে গোপন আড্ডা। বাইরে থেকে ক্যাফে বা লাউঞ্জ মনে হলেও ভেতরে এগুলো রূপ নেয় সিসা বারে।

সেখানে তামাকজাত সিসার সঙ্গে ব্যবহার হয় নানা ধরনের মাদক। অনেক জায়গায় চলে অনৈতিক কার্যক্রমও। অথচ দেশে সিসা বার পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমতি নেই। আইন স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা দিলেও কার্যকর তদারকির অভাবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে চলেছে এ সংস্কৃতি।

সম্প্রতি বনানীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই অবৈধ ব্যবসার চিত্র আরও স্পষ্ট করেছে। ‘৩৬০ ডিগ্রি’ নামের একটি সিসা বার থেকে বের হয়ে খুন হন এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ী।

তদন্তে জানা গেছে, এর আগেও ওই স্থানে ‘এরাবিয়ান কজি’ নামে সিসা বার চালু ছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তা বন্ধ হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ নাম পাল্টে আবারও একই ধরনের ব্যবসা শুরু করে। অভিযানের পরও এভাবে বারবার গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আমাদের প্রত্যাশা
কারাগারে মুজিব পরদেশী
দুই বছরেও মুছে যায়নি ৫ আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতি
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের জন্য দায়ী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী: আবু হানিফ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা