খাতায় যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর: শিক্ষামন্ত্রী

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে এ বছর পরীক্ষায় বাড়তি কোনো মানবিক নম্বর দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী জানান, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবছর মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র, ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।
শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা কোন পদ্ধতিতে খাতা দেখছে, সেটি মনিটরিং করা হবে। খাতায় যতটুকু উত্তর লিখবে শিক্ষার্থীরা, তার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো দুষ্টুচক্র যদি এসএসসি পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এহছানুল হক মিলন জানান, রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা কেন্দ্রে সময়মতো পৌঁছানো সহজ করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অনুরোধে সকাল ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এতে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবে এবং যানজটজনিত ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। পাশাপাশি অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদেরও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, পরীক্ষা চলাকালে যেন কোনো কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সমস্যা না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশের চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।
কোচিং সেন্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোচিং মনিটরিংয়ের জন্য সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কোনো রেগুলেশন নেই এবং কোথায় কোচিং হচ্ছে সে তথ্যও সরকারের কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন ও সময় নির্ধারণ অন্তর্বর্তী সরকার করেছে, আর বর্তমান সরকার পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল রয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম বা অপরাধ দমনে ১৯৮০ সালের আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। কিছু ভার্চুয়াল মহল বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, সেগুলো নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। আশা করছি সুন্দরভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।”
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তাকে ২৪ ঘণ্টাও রাখা হবে না। ইতোমধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার রুটিন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই সব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা কার্যক্রম জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে এবং সেই অনুযায়ী পরীক্ষাও নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































