যুদ্ধ নয়, স্থায়ী সমাধান: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৩ মে ২০২৬, ০৮:৫২
অ- অ+

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই প্রস্তাবের লক্ষ্য কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ৯ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবের পাল্টা জবাব হিসেবেই নতুন এই ১৪ দফা পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইরান। পুরো প্রক্রিয়াটি পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় এগিয়ে চলছে, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক বৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসানই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান তাদের পরিকল্পনা পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ওয়াশিংটনের।

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য দুই মাসের সময় চেয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে হবে।

ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা পরিকল্পনায় যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ভবিষ্যতে সামরিক আগ্রাসন বন্ধে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ইরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালীতে নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নতুন কাঠামো গঠন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির বিষয়গুলোও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ না থাকা, বন্দী বিনিময় এবং একটি সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক চুক্তির মাধ্যমে পুরো সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ১৪ দফা পরিকল্পনা কেবল একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব নয়, বরং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের একটি বড় বার্তা বহন করে। এখন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি।

(ঢাকাটাইমস/৩ মে/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চট্টগ্রামে বাসা থেকে সাবেক আওয়ামী লীগ নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার
কোটা জালিয়াতির অভিযোগ, তিন উপসচিব ওএসডি
সৌদি আরবের হয়ে যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান?
বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় সেই কিশোরের জামিন