হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ সরিয়ে নিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ সোমবার সকাল থেকে এই উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ চলাচলে ‘পথনির্দেশ’ দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ‘মানবিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং বিশেষ করে ইরানের সমন্বয়ে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে প্রণালী থেকে বের করে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনেক জাহাজ প্রণালিতে অবস্থান করবে বলেও জানান তিনি।
প্রায় ৮৫০টির বেশি জাহাজ কীভাবে সরানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এ কার্যক্রমে সরাসরি যুদ্ধজাহাজ দিয়ে এসকর্ট করার পরিকল্পনা নেই। বরং শিপিং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে। এর পাল্টা হিসেবে ১৩ এপ্রিল ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর আওতায় গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, ড্রোন প্ল্যাটফর্ম এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার করা যায়।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসে ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা শান্তি উদ্যোগের কয়েক দিন পর। ওই প্রস্তাবে প্রণালী খুলে দেওয়া, অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে।
যদিও দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ইতিবাচকভাবে’ এগোচ্ছে এবং তা সবার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই মানবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। প্রণালীটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের বেশি উঠে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে, যা মানবিক সংকটের রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা কমেনি। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ-এর পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলা নিয়ে জল্পনাও বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
(ঢাকাটাইমস/৪ মে/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












