সফর শেষে চীনের দেওয়া উপহার সবই ডাস্টবিনে, কড়া বার্তা ট্রাম্প প্রতিনিধিদলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৬ মে ২০২৬, ১৪:০৯
অ- অ+

চীন সফর শেষে বেইজিং ত্যাগের সময় এক নাটকীয় ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল। বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে চীন সরকারের দেওয়া সব ধরনের সামগ্রী ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

শুক্রবার (১৫ মে) বেইজিং ছাড়ার মুহূর্তে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সফরসঙ্গীদের কাছ থেকে প্রেস পাস, বিশেষ পিন, সাময়িক ব্যবহারের মোবাইল ফোন বা ‘বার্নার ফোন’সহ চীনের দেওয়া সব জিনিস সংগ্রহ করে বিমানের সিঁড়ির নিচে রাখা বড় ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রটোকল মেনেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, চীনের দেওয়া যেকোনো ডিভাইস বা সামগ্রীর মাধ্যমে নজরদারি কিংবা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই এত কঠোর অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পারস্পরিক অবিশ্বাসের চিত্র। যদিও সফরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক আয়োজনে শি জিনপিংকে এবং ট্রাম্পকে আন্তরিক পরিবেশে দেখা গেছে, তবে পর্দার আড়ালে দুই দেশের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল স্পষ্ট।

বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক টেম্পল অব হ্যাভেনে দুই নেতার বৈঠকের সময় মার্কিন সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের এক সশস্ত্র এজেন্টকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয় চীনা নিরাপত্তাকর্মীরা। তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের অস্ত্র বহন করা একটি প্রচলিত আন্তর্জাতিক প্রটোকল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

এছাড়া সফর শেষে বিমানবন্দরের পথে মার্কিন সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্টের মূল গাড়িবহরে যোগ দিতেও বাধা দেয় চীনা কর্মকর্তারা। পরে মার্কিন সহকারীরা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সাংবাদিকদের ভেতরে নিয়ে যান বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দেওয়া সামগ্রী প্রকাশ্যে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার ঘটনা কেবল নিরাপত্তা সতর্কতাই নয়, বরং বেইজিংয়ের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসেরও প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, এর আগেও চীন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিয়ে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরকালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও চীনা কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বাদানুবাদের ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/১৬ মে/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
লালবাগে ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার
ছাত্রদলের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
জাতীয় ঈদগাহ এলাকা থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
৪৪০০ ইয়াবা ও ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার