পুলিশি হয়রানি এড়াতে মাকে অস্বীকার করে যুগ্ম-সচিব ছেলে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৩ জুন ২০২৬, ১৮:১৮| আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১৮:২৩
অ- অ+

রাজধানীর মিরপুরে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের ঝামেলা এড়াতে প্রথমে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান।

পরে তিনি তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আজ (বুধবার) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, আনিসুর রহমান প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন যে নুরজাহান বেগম তার মা এবং তিনি মারা গেছেন।

এ কে এম আনিসুর রহমান বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কমডোর শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সচিবালয় থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি।

এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। আজ সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে ঘটনাটি তার মাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে কি না। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে পিতা-মাতার ভরণপোষণ–সংক্রান্ত আইন রয়েছে। প্রয়োজন হলে ওই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর–১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে পচন ধরেছিল এবং তাতে পোকা লেগেছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা একাকী জীবনযাপন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, একই বাসায় কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও তার মেয়ে মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাননি।

স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে দীর্ঘদিন আলাদা থাকতেন এবং তাদের সঙ্গে মায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তার এক ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান এবং অন্য ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান। তার মেয়ে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে জানা গেছে।

বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সন্তানদের দায়িত্ব ও অবহেলার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
খিলক্ষেতে উদ্ধার হওয়া চার বছরের শিশু ফিরল বাবা-মায়ের কোলে
ইউক্রেন যুদ্ধে কলম্বীয় ভাড়াটে যোদ্ধা ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার রাশিয়ার
রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
রিয়াল মাদ্রিদে নতুন চুক্তির পথে ভিনিসিয়ুস
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা