চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোবারক হোসেন ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে ঢাকার গুলশান-২ এলাকার একটি হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের সংগঠিত অপরাধচক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা যায়, ইমন চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাকে ‘বড় সাজ্জাদ’ নেটওয়ার্কের মাঠপর্যায়ের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বাকলিয়ায় জোড়া খুন এবং পতেঙ্গা এলাকায় আরেকটি হত্যাকাণ্ডের মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি পলাতক হয়ে যান। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজানসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় সাজ্জাদের বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর বড় সাজ্জাদের নেটওয়ার্কের মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান নামে দুজন। এই নেটওয়ার্কে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ভারত থেকে বড় সাজ্জাদ তার অনুসারীদের নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
সম্প্রতি মোবারক হোসেন ইমন নতুনভাবে আলোচনায় আসেন চট্টগ্রামের একজন সাংবাদিককে হুমকি প্রদানের ঘটনায়। চলতি বছরের ৯ মে বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে বেসরকারি টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিপ্লব দে পার্থের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়ঙ্কর অডিও বার্তাও পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয়, 'পুরো শরীরে এমনভাবে গুলি করা হবে, বোলতার বাসা বানিয়ে ফেলব।'
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর মোবারক হোসেন ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের অপরাধচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও অস্ত্র সরবরাহ সম্পর্কিত গোপন তথ্য উদ্ধারের আশা করছে পুলিশ।
একইসঙ্গে বড় সাজ্জাদের আরেক শীর্ষ সহযোগী পলাতক সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান এবং জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী ইয়াসিনকে গ্রেফতারেও অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জোর দিয়ে বলছেন, যেন কোনো অবস্থাতেই ইমন আর ছাড়া না পায়, সে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সংগঠিত অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
(ঢাকাটাইমস/২৩ জুন/এসএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































