মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের মুহুর্মুহু হামলা, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১
অ- অ+

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর এই অভিযান পরিকল্পনা করা হয়। তারা বলছে, এটি কেবল একটি সীমিত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর কৌশলগত বার্তা।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের প্রথম ধাপে জর্ডানে অবস্থিত প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটির একাধিক জ্বালানি ডিপো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে সন্দেহভাজন দুটি জাহাজ আটকের পর যুক্তরাষ্ট্র যে বিমান হামলা চালিয়েছিল, তারই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।

অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানি সূত্রের ভাষ্য, হামলায় মার্কিন বাহিনীর হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি বিমান হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় তারা এই ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

এরপর তৃতীয় ধাপে কুয়েতের আলী আল-সালেম এবং আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণ অবকাঠামো এবং একটি কৌশলগত রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানি সামরিক নীতিনির্ধারকেরা এই পুরো অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে কোনো বিদেশি শক্তির সামরিক আধিপত্য বা হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তারা আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, বাহরাইন কিংবা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হামলার ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা কিংবা সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে সামরিক সংঘাতে রূপ নিলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং মার্কিন মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

(ঢাকাটাইমস/১৩ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বরিশালের গৌরনদীতে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭০ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪০
বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হবে কোন দল, জানালো সুপার কম্পিউটার
বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রাইজমানি ঘোষণা ফিফা’র, খেললেই ১২.৫ মিলিয়ন ডলার, চ্যাম্পিয়ন হলে পাবে ৫০ মিলিয়ন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা