ভুয়া করোনা রিপোর্ট কেলেঙ্কারির সেই সাহেদ আবারও গ্রেপ্তার

করোনাকালে রোগীদের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট প্রদান ও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার দায়ে দেশজুড়ে আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম আবারও গ্রেপ্তার হয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্ত্বর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির বলেন, পল্লবী থানার একটি মামলায় জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের সহায়তায় ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে সাহেদ করিমকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করছেন, ওই পরোয়ানার মামলায় ইতোমধ্যে আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। থানায় আনার পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কে এই সাহেদ
মো. সাহেদ করিম, বহুল আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান। টেলিভিশনের বিভিন্ন টকশোতে তিনি নিজেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য পরিচয়ও ব্যবহার করতেন বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে।
ঢাকা টাইমসের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাহেদ এসএসসি পাস করলেও এরপর আর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে রাজধানীর ধানমন্ডির ১৫ নম্বর সড়কে একটি এমএলএম প্রতিষ্ঠান চালু করেন। অভিযোগ রয়েছে, ‘বিডিএস ক্লিক ওয়ান’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এছাড়া প্রতারণার অর্থে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় রিজেন্ট কলেজ, রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
২০২০ সালের ৬ জুলাই র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ দেওয়ার প্রমাণ পায়। পরদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে কার্যালয় সিলগালা করা হয়। একই দিন উত্তরা পশ্চিম থানায় সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
পরে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই ভোরে ভারত পালানোর চেষ্টার সময় সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাহেদ। সে সময় কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা ছিল। এর মধ্যে পাঁচটিতে তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































