‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’র নাটক ফাঁস, মায়ের হত্যায় ছেলেসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ বলে প্রচার চালানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই দশক পর রায় দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় নিহত মরিয়ম বেওয়ার সৎছেলেসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. তসরুজ্জামান দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহানুর রহমান শাহীন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—কালাই উপজেলার পুনট পাঁচপাইয়া গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে সুজাউল ইসলাম, মৃত কছিমুদ্দিন মোল্লার ছেলে ছালামত মোল্লা এবং আব্দুর রহমান সরকারের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন সরকার।
আদালত সূত্র ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর মরিয়ম বেওয়া সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করতেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে ২০০৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে সৎছেলে সুজাউল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে অসুস্থতার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
পরে পাশের একটি মাঠে নিয়ে মরিয়ম বেওয়াকে মারধর করা হয় এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর এলাকায় প্রচার করা হয়, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
পরদিন পুলিশ পুকুর থেকে মরিয়ম বেওয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ ও ঘটনার বিভিন্ন অসংগতির কারণে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার এক সপ্তাহ পর ২০০৫ সালের ৭ আগস্ট নিহতের বোন বাদী হয়ে কালাই থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহানুর রহমান শাহীন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ সময় পর হলেও এ রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ তাদের আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নিয়ে যায়।
(ঢাকাটাইমস/২৮ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































