‘সালমান শাহকে হত্যায় ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি’

চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার জন্য চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেছেন ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।
তাঁর ভাষ্য, অপর একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় আসামি রিজভী আহমেদের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আজ রবিবার (৯ আগস্ট) সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডনকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এসব কথা বলেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, অপর একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় রিজভী আহমেদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিল। আজিজ মোহাম্মদ ভাই সালমান শাহকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকায় ডনের সঙ্গে চুক্তি করেন বলে ওই জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের এই বক্তব্যের বিষয়ে ডনের পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী শুনানি করেননি। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
বিমানবন্দরে আটক, পরে আদালতে
সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি আশরাফুল হক ডন। রবিবার ভোর পাঁচটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আবারও পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২৯ বছর পর হত্যা মামলা
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও তদন্ত হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহারে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি ও আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে এজাহারভুক্ত আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।
মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। বর্তমানে সিআইডি মামলাটি অধিকতর তদন্ত করছে।
এর মধ্যে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা ডন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে সিআইডি জানিয়েছে। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে সিআইডির কাছে হস্তান্তরের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
ডনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছিলেন, মামলাটি অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে এবং তার গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































