২৩ হাজার ছবি থেকে সেরা ছবি বাছাইয়ের অভিজ্ঞতা জানালেন চার বিচারক

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৫০
অ- অ+

২৩ হাজারের বেশি ছবি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্মার্টফোনে তোলা এসব ছবির মধ্য থেকে সেরা ছবিগুলো বাছাই করা সহজ কাজ ছিল না। ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু কারিগরি নিখুঁততা বা নান্দনিকতার দিকে নজর দেননি বিচারকেরা। ছবির কম্পোজিশন, আবেগ, মৌলিকত্ব, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং গল্প বলার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে ‘এভরি ফটো টেলস এ স্টোরি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজন করা হয় ‘অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’। পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণ ফটোপ্রেমীরা অংশ নেন।

অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি প্রেজেন্টস ‘অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’-এ ছবি জমা নেওয়া হয় পাঁচটি বিভাগে—পোর্ট্রেট, নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ, স্ট্রিট অ্যান্ড আর্কিটেকচার, লো লাইট এবং হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার।

বিপুলসংখ্যক ছবির মধ্য থেকে সেরাগুলো বাছাইয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিযোগিতার চার বিচারক।

পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান খন্দকার তানভীর মুরাদ বলেন, ফটোগ্রাফি শুধু দৃষ্টিনন্দন কোনো দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার বিষয় নয়। সাধারণ মুহূর্তের মধ্যেও অসাধারণ কিছু খুঁজে পাওয়াই ফটোগ্রাফির বড় বিষয়।

তিনি বলেন, “সাধারণ মুহূর্তের মাঝে অসাধারণ কিছু আবিষ্কার করার নামই ফটোগ্রাফি, আর অপো সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব রূপ দিতে সহায়তা করে।”

ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার শফিকুল আলম কিরণের ফটোগ্রাফিতে রয়েছে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা। অ্যাসিড সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর মতে, যে ছবি দর্শকের মনে গভীর কোনো বার্তা পৌঁছে দিতে পারে, সেটিই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে পুরস্কারপ্রাপ্ত ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার ও ফটোসাংবাদিক কে এম আসাদ বলেন, বিপুলসংখ্যক ছবি থেকে সেরাগুলো বাছাই করা ছিল কঠিন। কারণ, প্রতিযোগিতায় জমা পড়া অনেক ছবিই মানসম্মত ছিল।

মানবিক, পরিবেশগত ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে ছবিগুলো মূল্যায়ন করেছেন বলে জানান তিনি।

বিচারকদের মতে, পাঁচটি বিভাগে জমা পড়া ছবির মধ্যে কারিগরি দিক থেকে নিখুঁত ছবি খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল না। বরং এমন ছবি খুঁজে বের করাটাই কঠিন ছিল, যা দর্শককে কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে দেবে, ছবিটির দিকে মনোযোগী করবে এবং ছবির গল্পের সঙ্গে যুক্ত করবে।

ফটোগ্রাফার রাজোয়ানা চৌধুরী জিনিয়া মনে করেন, পৃথিবীকে একজন মানুষ কীভাবে দেখেন, ফটোগ্রাফির মাধ্যমে তারই একটি প্রকাশ ঘটে। তাঁর মতে, একটি ভালো ছবি তৈরির নির্দিষ্ট কোনো সূত্র নেই।

বিচারকদের সমন্বিত মূল্যায়নে, কোনো ছবি আবেগের কারণে এগিয়ে যেতে পারে, কোনোটি মৌলিকত্বের কারণে। আবার কোনো ছবি সাধারণ একটি মুহূর্তকে অন্যদের চেয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেও দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে পারে।

২৩ হাজারের বেশি ছবির মধ্য থেকে চূড়ান্ত ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাই একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের পাশাপাশি বিচারকদের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের মতে, একজন আলোকচিত্রীর দেখা পৃথিবী যখন দর্শকের অনুভূতির সঙ্গে মিলে যায়, তখনই একটি ছবি দীর্ঘসময় মনে থাকার মতো হয়ে ওঠে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
র‍্যাব বিলুপ্ত
দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক না কেন আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি 
বিএনপি নেতা ডাবলুর ‘৬০০ ধর্ষণের’ দাবির প্রতিবাদ জানাল সাতক্ষীরা জামায়াত
জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের