অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে গ্রাহক, তিন মাসে বেড়েছে কয়েক গুণ

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা। একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল—দুই দিকের চাপেই হতাশ সাধারণ মানুষ। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় জুন মাস থেকে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
নগরীর মগবাজারের সোয়েব জানান, তার বাসায় কোনো এসি নেই। স্বাভাবিক সময়ে বিদ্যুৎ বিল আসে প্রায় দুই হাজার টাকা। মে মাসে বিল ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু জুন মাসে বিল এসেছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। তার হিসাবে, এক মাসে বিল বেড়েছে প্রায় ১২৫ শতাংশ।
ডিপিডিসির গ্রাহক আরিফ ইশতিয়াক আদনান জানান, তার ভাড়াটিয়া স্বল্প আয়ের মানুষ। দুই কক্ষের ওই বাসায় দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও চারটি লাইট ব্যবহার করা হয়। মে মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৮০০ টাকা। জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭০০ টাকায়। এতে তার ভাড়াটিয়া বিপাকে পড়েছেন এবং বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে সংসারের বাজার খরচেও টান পড়েছে।
মিরপুর এলাকার ব্যবসায়ী বাবু হোসেন বলেন, তার বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি এসেছে। সাধারণত তার বিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু জুন মাসে বিল এসেছে ৬ হাজার ৮৭০ টাকা। তার হিসাবে, এক মাসে বিল বেড়েছে প্রায় ১৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
শুধু আবাসিক গ্রাহক নয়, বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালুর মাঠ এলাকার সিন্যামন রেস্টুরেন্টের মালিক শাকিল সারোয়ার জানান, মে মাসে তার রেস্টুরেন্টের বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এটিও তার কাছে বেশি মনে হয়েছিল। তবে জুন মাসে বিল এসেছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০০ টাকা।
আড়াইহাজারের বাসিন্দা ইসরাফিল বলেন, জুন মাসে মে মাসের তুলনায় লোডশেডিং বেশি হয়েছে। অথচ মে মাসের চেয়ে জুনে বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের গৃহস্থালি ব্যবহারে ছয়টি স্ল্যাব রয়েছে। শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রথম স্ল্যাবে প্রতি ইউনিটের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা। ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটে ৭ টাকা ২০ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটে ৭ টাকা ৫৯ পয়সা। এরপর ৩০১ থেকে ৪০০, ৪০১ থেকে ৬০০ এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারের জন্য পৃথক স্ল্যাব রয়েছে। সর্বোচ্চ স্ল্যাবে প্রতি ইউনিটের দাম ১৪ টাকা ৬১ পয়সা।
অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, সরকার গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক পর্যায়ে ১৮ দশমিক ০৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। কিন্তু অনেক গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল ৪৫ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অতিরিক্ত বিলের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
তার অভিযোগ, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও জুন মাসের বিল একই পদ্ধতিতে বেশি দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, রাজধানীর উত্তরা এলাকার ভাড়াটিয়া বিলকিস নাহারও মিটার রিডিং নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৭০৮ টাকা। জুলাইয়ে বিল আসে ৫ হাজার ৬২৩ টাকা, আগস্টে ৬ হাজার ৬৬৪ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৩৪ টাকা।
বিলকিস নাহারের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে বিলের পরিমাণের সামঞ্জস্য নেই। তাই মিটার রিডিং যাচাই করে প্রকৃত বিল নির্ধারণ এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান বিলকিস নাহার।
(ঢাকাটাইমস/১০ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































