টেলিগ্রামে চাকরির প্রলোভনে ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন–মো. জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও প্রহড় (২৮)। জুলহাস কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। আর প্রহড় করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার সিআইডির মিডিয়া বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী মেহেদি হক নিয়নকে (৪৯) ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট টেলিগ্রামের একটি আইডি থেকে Zales জুয়েলারি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাদী প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট দেখে চাকরিতে আগ্রহী হলে প্রতারকেরা একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তাঁকে ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে।
সেখানে অনলাইনে বিভিন্ন অর্ডার সম্পন্ন করে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেখানো হয়। পরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয়। একপর্যায়ে ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করার কথা বলে বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় টাকা নেওয়া হয়।
সিআইডির ভাষ্য, অর্ডার সম্পন্ন করার পর বাদীর অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন অঙ্কের মুনাফা দেখানো হতো। পরে পরবর্তী অর্ডার সম্পন্ন ও প্রদর্শিত মুনাফার টাকা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা জমা দিতে বলা হতো। প্রতারক চক্রের কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিক দফায় টাকা পাঠান। এভাবে তাঁর কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪১৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরই মধ্যে চক্রটির ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি প্রহড়কেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













