স্বাধীনতা মানে এটা নয় যে, যা ইচ্ছে তা লিখবেন: প্রেস সচিব

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, গুঞ্জন, অপতথ্য ও মিথ্যাচার রোধে তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতা মানে হচ্ছে এটা নয় যে, যা ইচ্ছে আপনি তা লিখবেন।’
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা সরকার বা কোনো ব্যক্তি নির্ধারণ করবে না বরং আইন, বিধি অনুযায়ী আদালতের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘এই বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতার পক্ষে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে। সংবাদপত্রের, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে। আমরা যখনই এই কথাটা বলি, স্বাধীনতার কথা বলি, তখন আমরা যেন স্বৈরাচারী না হয়ে উঠি। স্বাধীনতা মানে হচ্ছে এটা নয় যে, যা ইচ্ছে আপনি তা লিখবেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে যখন লেখা শুরু করবেন, যার বিরুদ্ধে লেখা শুরু করবেন, তার কোনো বক্তব্য তো আপনাকে নিতে হবে।’
অপতথ্য মোকাবিলায় প্রতিটি গণমাধ্যমকে নিয়মিত ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য যাচাইয়ের আয়োজন করার আহ্বান জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, সংবাদমাধ্যম, মোবাইল সাংবাদিকতা ও নাগরিক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত সবাই এ কাজে ভূমিকা রাখতে পারেন।
আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘এই গুজব, গুঞ্জন, মিথ্যাচার এগুলো বন্ধ করার জন্য আপনারা যারা গণমাধ্যমে কাজ করছেন, আমরা যদি প্রত্যেকে ১০ মিনিটের জন্য একটা অনুষ্ঠান করি, ১৫ মিনিটের জন্য অনুষ্ঠান করি, কিংবা প্রিন্ট মিডিয়া হলে আমরা একটা নিউজ ছাপি, সারা দিন আমরা যা দেখেছি, যা শুনেছি, যা বুঝেছি এগুলো কি আসলেই সত্য ছিল কি না।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, এখন তো আপনাদের প্রশ্ন আসবে, তাহলে আপনারা কি গণমাধ্যমের ঝুঁটি চেপে ধরতে চান কি না? আমার কথা হচ্ছে, স্বাধীনতা কত দূর গণমাধ্যমের? এটা কে নির্ধারণ করবে? সরকার, আমি, আপনি? কে নির্ধারণ করবে? আমার যেমন স্বাধীনতা আছে, আমার এটার একটা সীমানারেখাও আছে। তবে সে সীমানারেখাটা আমি, আপনি, সরকার নির্ধারণ করব না, সে সীমানারেখা নির্ধারণ করবে আদালত।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেও প্রশাসনকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, জগতে এমন কিছু নেই যেখানে ঝুঁকি নেই। রাজনীতিতে ঝুঁকি তো অবশ্যই ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজকে ২১৩ দিন। এর মধ্যে অসংখ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরকার সব নাগরিকের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছে দাবি করে আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, সরকার সকলের হওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে। এই দেশে মানুষের মানবিক মর্যাদা ছিল। আমাকে কেউ সমর্থন করলেও আমি থাকব, কেউ সমর্থন না করলেও আমি থাকব। আমি অন্যায় করলে আমার শাস্তি হবে।
অনুষ্ঠানে হাম পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রেস সচিব। তিনি জানান, শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের একটি নির্দিষ্ট টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে হাম ছড়িয়ে পড়ার সময় টিকার সংকট দেখা যায়।
আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যখন হাম ছড়ানো শুরু করল তখন দেখা গেল, টিকা নেই। তার মানে এর আগে পাঁচ বছর ঠিকমতো টিকা দেওয়া হয়নি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের পেশাগত মান ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পেটে ভাত না থাকলে কোয়ালিটি মেনটেইন করা যায় না। আমাদের পেটে ভাতই নাই, আমরা কোয়ালিটি মেনটেইন করব কীভাবে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নন—সেটি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, সাংবাদিকতার মান নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে আইনি ভিত্তি প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সংগঠনটির নেতারা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













