খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হলেন রেজাউল করিম, জানুন তাকে নিয়ে

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস) রেজাউল করিমকে বদলি করে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তার দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে।
রেজাউল করিম ১৮ তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তার বাড়ি গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর উপজেলায়। একজন দক্ষ, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে তার সুনাম থাকলেও ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এছাড়া একই কারণে তাকে পুলিশের কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন করা হতো।
চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে পদোন্নতি এবং পরে পুলিশ সদরদপ্তরের অপারেশনস্ বিভাগে দায়িত্ব পান তিনি। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে পুলিশ বাহিনীর চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে অপারেশনস বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়িয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ সদস্যদের মনোবল ফেরাতে ডিআইজি রেজাউল করিম বেশ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতেও তার প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রেজাউল করিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের পুলিশ ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে তিনি কাজ করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুতি ও অপারেশনাল কার্যক্রম তদারকি করেন তিনি। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়াতেও অপারেশনস বিভাগের কার্যক্রমে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এছাড়া চব্বিশের ৫ আগস্টের পর দেশে উদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যেই ওই বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উৎসবটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা পুলিশের জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে পূজাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কতামূলক তথ্যও ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের পূজামণ্ডপের রাত-দিন ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা ও পুলিশের প্রস্তুতি সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ডিআইজি রেজাউল করিম। তার তদারকিতে নেওয়া নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে সে বছর সারাদেশে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













