রাজশাহী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর নগর: ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, রাজশাহী সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি মাঝারি ক্যাটাগরির মহানগরীতে সবথেকে সুন্দর নগর। পরিচ্ছন্ন, ক্লিন, গ্রিন ও শিক্ষানগরী ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে পরিচিত হয়েছে। এই মহানগর নিরাপদ। আমরা সবাই এই মহানগরের সন্তান ও একে অপরের ভাই ভাইও। সবাই মিলেই মহানগরীকে এগিয়ে নেব।
শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর সিটি হাট মোড়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচটি পুনঃস্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাজশাহীর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। তিনি রাজশাহীর উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রেখেছেন। যা এই রাজশাহীবাসী কখনোই ভুলতে পারবেনা। এটা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালে আমাদের নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছিলেন। কিন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় পরবর্তী ফ্যাসিস্ট সরকার এসে যারা অন্যদের সম্মান করতে জানে না তারা এটিকে আড়াল করে দিয়েছিল। তা আবার পুনস্থাপিত হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে রাজশাহীর উন্নয়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জামিরা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তা অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বমাণের করে পুনঃনির্মাণ করা হবে। রাসিকের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর মেয়াদকালে গৃহীত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি এবং তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাড. এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন, রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নূর-ঈ সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদূর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু,নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট সহ অন্যান্য প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, শফিকুল ইসলাম শাফিক, মুক্তার হোসেন ও জয়নাল আবেদীন শিবলী, রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওলিদ আবির, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী মহানগরীর ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়াস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাটোর মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পটির আওতায় স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলকগুলো ঘোষপাড়া মোড়, মেডিকেল বন্ধগেট মোড় ও সিটি হাট-উত্তর নওদাপাড়া মোড়ে অবস্থিত ছিল।
এ ছাড়া, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণার্থে নর্দমা নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। উপরোক্ত দুইটি প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।
অন্যদিকে, ২০০৪ সালের ১৫ অক্টোবর গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহী মহানগরীর মোড় প্রশস্তকরণ ও শহর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলক মুছে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ফলকগুলো পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর ঐতিহাসিক স্মৃতি পুনরুদ্ধার করা হলো।
(ঢাকা টাইমস/১০অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












